শেফিল্ড টাইমস ডিজিটাল ডেস্ক: বেশ কিছুদিনের ধ্বংসের পরে এবার নতুন বাংলাদেশ নতুন ভাবে গড়ে উঠতে চাইছে। তাই তাদের অহংকার '২১ ফেব্রুয়ারি' কে এবার যথাযথ মর্যাদা দিয়ে তারা পালন করবে। বাংলাদেশে রাজনৈতিক পালাবদলের পর আবার একবার ২১ ফেব্রুয়ারি। ১৯৫২ সালের পর থেকে এই দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি সারা বিশ্বে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয় এই দিনটি। তবে ২০২৬-এর ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের নিরিখে আরও স্পেশাল। প্রায় দেড় বছর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পর এবার আবার বাংলাদেশে রয়েছে নির্বাচিত সরকার। ২০০৬ সালের পর আবার ক্ষমতায় ফিরেছে BNP। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের দিকে সকলের নজর রয়েছে। বাংলাদেশের প্রথম সারির সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো জানাচ্ছে, রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালনের সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। মধ্যরাত ১২ টা বেজে ১ মিনিটে ঢাকার শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হবে। এরপর শনিবার ভোরে কালো ব্যাজ পরে প্রভাতফেরিসহকারে আজিমপুর কবরস্থানে শহিদদের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও শ্রদ্ধা জানাবে সর্বস্তরের জনতা।
{link}
পাশাপাশি শুক্রবার BNP-র মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজে জানানো হয়েছে, শুক্রবার রাত ১২টা বাজার ১ মিনিট পর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অপর্ণ করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভাষাশহিদদের শ্রদ্ধা জানাবেন তিনি। অন্যদিকে, 'অমর একুশে ফেব্রুয়ারি'তে পদ্মাপারে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মরিয়া রয়েছে বাংলাদেশের র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নও। RAB-এর ডিরেক্টর জেনারেল, একেএম শহিদুর রহমান দাবি করেছেন, এদিন বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্য সব বাহিনীর সঙ্গে RAB ফোর্সও মোতায়েন থাকবে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা ৬৪টি ক্যামেরার সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে বলেও জানান তিনি। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে তৎকালীন পূর্ব বাংলার (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ছাত্র ও যুবরা পাকিস্তানি প্রশাসনের জারি করা ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে রাজপথে নেমে এসেছিল। মাতৃভাষার রক্ষার সেই আন্দোলনে থাকা ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলি চালায় পুলিশ। যার জেরে শহিদ হন সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত, রফিকসহ নাম না–জানা আরও অনেকে। তাঁদের সেই আত্মত্যাগই আজ বিশ্বজুড়ে ভাষাপ্রেম ও অধিকার আদায়ের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। যা শুরু হয়েছিল বাংলাদেশ থেকেই।
{ads}