আবার 'ইলিশ'কে কেন্দ্র করে নতুন রসায়ন তৈরী হতে চলেছে ভারত বাংলাদেশের। খবরে প্রকাশ, ১ বৈশাখ পশ্চিমবঙ্গের বাজার ভরতে চলেছে বাংলাদেশী ইলিশে। বাঙালির আর এক আবেগের জিনিস হল পদ্মার ইলিশ (Bangladeshi Hilsa)। ওইদিন নতুন জামাকাপড়, পুজো, ভ্রমণ এবং নানা রকম সুস্বাদু খাবারের মাধ্যমে দিনটি উদ্যাপন করেন বাঙালিরা। পাশাপাশি বছরের প্রথম দিনে পাতে বিশেষ কিছু রাখার রেওয়াজ বহুদিনের, আর সেই তালিকায় যদি থাকে ইলিশ, তাহলে উৎসব যেন পূর্ণতা পায়। ‘মাছে ভাতে বাঙালি’ প্রবাদকে সত্যি করে এই মাছ বাঙালির সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। ইলিশের নানা পদ, ভাজা, ঝোল, সরষে বা ভাপা, সবই বাঙালির কাছে প্রিয়। তবে স্বাদের দিক থেকে সবার উপরে ধরা হয় পদ্মার ইলিশকে, যা মূলত বাংলাদেশ থেকে আসে। তাই প্রতিবছর উৎসবের মরশুমে বাংলাদেশের ইলিশ ভারতে আসবে কি না, তা নিয়ে আগ্রহ থাকে তুঙ্গে। এ বছরও পয়লা বৈশাখকে ঘিরে তেমনই এক সম্ভাবনার কথা সামনে এসেছে, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জল্পনা।
অতীতে শেখ হাসিনার আমলে দুর্গাপুজোর সময় নিয়মিতভাবে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ রফতানি করা হত ভারতে। পরবর্তী সময়েও কিছুটা টানাপোড়েন থাকলেও সেই ধারা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে এই ইস্যু। সূত্রের খবর, এবারের পয়লা বৈশাখেই ভারতে ইলিশ রফতানির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই দুই দেশের কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান ভারত সফরে আসছেন, তাঁর সঙ্গে থাকছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। অন্যদিকে, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনার প্রণয়কুমার বর্মার সঙ্গে বৈঠকে জ্বালানি সহযোগিতাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ইলিশ রফতানি যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে তা শুধু খাদ্যরসিকদের জন্যই সুখবর হবে না, বরং দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এক ইতিবাচক বার্তা দেবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক বিনিময় কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে পারে। ফলে পয়লা বৈশাখে পাতে পদ্মার ইলিশ (Bangladeshi Hilsa) উঠবে কি না, তা নিয়ে এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন বঙ্গবাসী।
