শেফিল্ড টাইমস ডিজিটাল ডেস্ক: কুকুরকে যথাযথ ট্রেনিং দেওয়া গেলে কুকুর আসাধ্য সাধন করতে পারে। আবার তা প্রমাণ করলো ভারতের ট্রেনিংপ্রাপ্ত কুকুর সাম্বা। বিপর্যয়ের পর কেটে গিয়েছে বেশ কিছু দিন। ধ্বংসস্তূপ থেকে প্রাণের সন্ধান মেলার আশা ছেড়েই দিয়েছেন নিখোঁজদের পরিজনরা। কিন্তু একা নেপালের সেনা-পুলিশ, নিরাপত্তারক্ষী, বিপর্যয় মোকাবিলা রক্ষী বাহিনীর সদস্যরাই যে এখনও প্রাণপাত করে কাদামাটির স্রোত, ঘরবাড়ির ভাঙা টুকরো, ধ্বংসস্তূপের মধ্যে মৃতদেহ খুঁজে বেড়াচ্ছেন তা নয়। দেহ খুঁজছে সারমেয় বাহিনীও। তারা বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত। যেমন সাম্বা। সাম্বা ল্যাব্রাডর গোত্রের চারপেয়ে এবং সে নেপালের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (আর্মড পুলিশ ফোর্স) কে-নাইন ইউনিটের অন্যতম অংশ।
একটি চমকপ্রদ বৈশিষ্ট্য রয়েছে এই চতুষ্পদটির। আর সেটি হল, তাকে আনা হয়েছিল নেপালেরই পড়শি দেশ ভারত থেকে। তারপর দেওয়া হয়েছিল প্রশিক্ষণ কে-নাইন ইউনিটের অন্যান্য চতুষ্পদের সঙ্গে। এই ইউনিটের সারমেয়দের বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে মানুষের দেহের গন্ধ চিনে, ধ্বংসস্তূপের কোথায় দেহ থাকতে পারে, তা খুঁজে বের করতে। আর সাম্বা সেই দায়িত্বই পালন করেছে নিষ্ঠাভরে। কাদামাটির তাল হাতড়ে, শুধু গন্ধ শুঁকে, শুঁকে সে রাসুয়া এবং ত্রিশূলী এলাকা থেকে ২০টি দেহের সন্ধান পেতে সাহায্য করেছে সেনা-পুলিশের দলটিকে। কিন্তু কীভাবে এই কাজ এত নিপুণভাবে করতে পেরেছিল সাম্বা? তাকে প্রশিক্ষণের দায়িত্বে থাকা আধিকারিকরাই বলছেন, মাটি শুঁকতে শুঁকতে এগিয়ে যেত সাম্বা। কোথাও মানুষের দেহের গন্ধ পেলেই দাঁড়িয়ে যেত। তারপর জোরে জোরে ডাকতে থাকত। তখনই সিগন্যাল পেয়ে যেতেন তার হ্যান্ডলাররা। তৎক্ষণাৎ তাঁরা এগিয়ে এসে ওই জায়গায় খোঁড়াখুঁড়ি করতে শুরু করতেন। তারপরই দেহ উদ্ধার হয়।
