শেফিল্ড টাইমস ডিজিটাল ডেস্ক: বাংলাদেশ ভারত থেকে যত দূরে সরছে, ততোই ঘনিষ্ঠ হচ্ছে পাকিস্তানের। এবার সেই দিকেই আরো এক পা এগিয়ে গেলো পাকিস্তান। বাংলাদেশে কি ফের বাড়ছে পাকিস্তানের প্রভাব? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (DUCSU) মিউজিয়ামে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সরিয়ে সেখানে বসানো হল পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মহম্মদ আলি জিন্নার ছবি। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ মুজিবের জায়গায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতার ছবি ঘিরেই এখন তীব্র বিতর্ক। ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার মিউজিয়ামে ঢুকে জিন্নার তিনটি ছবি নামিয়ে দেন এক পড়ুয়া। বিষয়টি নিয়ে ছাত্র সংগঠনগুলির মধ্যে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। পরিস্থিতি নিয়ে কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও। রবিবার সাধারণ মানুষের জন্য DUCSU মিউজিয়াম খুলে দেওয়া হয়। উদ্বোধনের সময় উপস্থিত ছিলেন DUCSU-র মুক্তিযুদ্ধ ও গণআন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা, সহ-সভাপতি শাদিক কায়েম, সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ-সহ ছাত্র সংসদের অন্যান্য প্রতিনিধিরা।
সংস্কারের আগে মিউজিয়ামে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা তুলে ধরা একাধিক ছবি ছিল। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৮ সালের আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ের সঙ্গে যুক্ত মুজিবের ছবি সেখানে ছিল। এছাড়াও ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের ছবিও ছিল। সেই ভাষণকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সংস্কারের পর সেই ছবিগুলির অধিকাংশই আর মিউজিয়ামে দেখা যাচ্ছে না। প্রথম আলোর দাবি, শেখ মুজিবকে নিয়ে থাকা ছবিগুলির মধ্যে মূলত তাঁর দুই ছেলের ১৯৭৪ সালের বিয়ের ছবি এবং তাঁর ছবি-সহ কিছু পুরনো সংবাদপত্রের কাটিং রাখা হয়েছে।
