শেফিল্ড টাইমস ডিজিটাল ডেস্ক: এমনিতেই সবদিক সামলাতে নাস্তানাবুদ পাকিস্তান একদিকে বলোচ বিদ্রোহীদের বিদ্রোহী, অন্যদিকে ইমরান খানকে নিয়ে সরকারের উপর প্রবল চাপ - তার মধ্যেই প্রবল বিদ্যুৎ বিভ্রাটে দেশের মধ্যে রীতিমত বিদ্রোহ। বিদ্যুৎহীন ইসলামাবাদ, রাওয়ালপিন্ডি, করাচির মতো একের পর এক শহর। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎহীন অবস্থা চলছে। সবচেয়ে গুরুতর অবস্থা করাচির। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ জায়গায় গিয়েছে যে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রতিবাদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান সাধারণ মানুষ। যার জেরে ব্যাপক যানজট তৈরি হয় জাতীয় সড়কে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিয়মিত ১২ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে লোডশেডিংয়ে ভুগতে হচ্ছে তাদের। পাকিস্তানের করাচিতে বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছে কে ইলেকট্রিক। তাদের দাবি, বিদ্যুৎ চুরি রুখতে লাগাতার প্রচার অভিযান চালানো সত্ত্বেও বিদ্যুৎচুরিতে লাগাম পরানো যাচ্ছে না। মানুষ বিল পরিশোধ করছে না।
কয়েকশো কোটি টাকার বিল বকেয়া রয়েছে। এদিকে করাচির গরিবাবাদের বাসিন্দা ইমরান বলেন, “আমরা সময়মতো বিদ্যুৎ বিল শোধ করি, তারপরও ১২ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ নেই। বিদ্যুতের সমস্যায় পাম্পিং স্টেশনগুলো বন্ধ থাকায় জল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। মিছিল ও বিক্ষোভের কারণে পুরো শহর অচল হয়ে পড়েছে।” এদিকে প্রশাসনের তরফে জানা যাচ্ছে, এই সমস্যার নেপথ্যে বহু কারণ হয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, করাচিতে যে সংস্থা বিদ্যুৎ পরিবহণ করে তাদের তার সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থায় বিদ্যুতের ঘাটতি ও ত্রুটির সম্মুখীন হচ্ছে। কোনও এলাকায় লাইন বা ট্রান্সফরমার বিকল হওয়ার কারণে নির্ধারিত লোডশেডিংয়ের পরেও বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, পাকিস্তানের অনেক বিদ্যুৎ কেন্দ্র গ্যাস এবং আরএলএনজি দ্বারা চালিত হয়। সম্প্রতি জ্বালানি সরবরাহের সমস্যা বিদ্যুৎ উৎপাদনকে প্রভাবিত করেছে। তৃতীয়ত, সংস্থাগুলি যেহেতু পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছে না তাই লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে ঘাটতি পূরণ করছে।

