শেফিল্ড টাইমস ডিজিটাল ডেস্ক:আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি দুর্গাপুজোর। ইতিমধ্যে রথের দিন অনেক পুজো মন্ডপে 'খুঁটিপুজো' হয়ে গেছে।
২০২৬ সালের দুর্গাপুজোর দিন ১০ অক্টোবর মহালয়া, ১৭ অক্টোবর মহাষষ্ঠী, ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী।মহালয়া ২০২৬ কবে?
বাঙালির কাছে মহালয়া শুধু ক্যালেন্ডারের একটি দিন নয়। ভোরবেলায় মহিষাসুরমর্দিনী শোনা, দেবীপক্ষের সূচনা এবং পুজোর আগমনী আবহ; সব মিলিয়ে মহালয়া যেন দুর্গাপুজোর প্রথম ঘণ্টা।২০২৬ সালের মহালয়া পড়েছে ১০ অক্টোবর, শনিবার।মহালয়ার পরের দিন, ১১ অক্টোবর, রবিবার, শুরু হবে দেবীপক্ষ। এর পর কয়েক দিন অপেক্ষা। তারপর ১৭ অক্টোবর থেকে শুরু হবে দুর্গাপুজোর মূল পর্ব। ফলে মহালয়া থেকে ষষ্ঠীর মধ্যে হাতে থাকবে প্রস্তুতির জন্য বেশ কিছুটা সময়।
মহাষষ্ঠী কবে?
বাঙালির বহু প্রতীক্ষিত দুর্গাপুজোর মূল পর্ব শুরু হবে ১৭ অক্টোবর, শনিবার, মহাষষ্ঠীর মাধ্যমে। ষষ্ঠীর দিন বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আচার পালিত হয়। বিভিন্ন পুজোমণ্ডপে এই দিন থেকেই দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে শুরু করে। শহর কলকাতা থেকে জেলার ছোট শহর বা গ্রাম; সব জায়গাতেই ষষ্ঠীর সন্ধ্যার পর পুজোর পরিবেশ আরও জমে ওঠে।
মহাসপ্তমী কবে?
ষষ্ঠীর পরের দিনই মহাসপ্তমী।
২০২৬ সালের মহাসপ্তমী ১৮ অক্টোবর, রবিবার।সপ্তমীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আচার নবপত্রিকা স্নান। বিভিন্ন পুজোমণ্ডপে সকাল থেকেই শুরু হয় বিশেষ পুজো। সপ্তমীর দিন থেকেই ঠাকুর দেখা, প্যান্ডেল ঘোরা এবং রাত জাগার পালা আরও জোরদার হয়।
মহাষ্টমী কবে?
দুর্গাপুজোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলির একটি মহাষ্টমী।২০২৬ সালের মহাষ্টমী পড়েছে ১৯ অক্টোবর, সোমবার।অষ্টমীর অঞ্জলি দিতে সকাল থেকেই মণ্ডপে ভিড় করেন বহু মানুষ। নতুন পোশাক পরে পরিবারের সঙ্গে পুজোমণ্ডপে গিয়ে অঞ্জলি দেওয়া বাঙালির দীর্ঘ দিনের রীতি। সন্ধ্যায় রয়েছে সন্ধিপুজো। তাই অষ্টমীর দিন সকাল থেকে রাত—দুই সময়েই থাকে আলাদা আকর্ষণ।
মহানবমী কবে?
২০ অক্টোবর, মঙ্গলবার পালিত হবে মহানবমী।
অনেকের কাছেই নবমী হল পুজোর শেষ পূর্ণ দিন। নবমীর পুজো, হোম এবং সন্ধ্যার অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মণ্ডপে মণ্ডপে ভিড় হয়। ফলে ষষ্ঠী থেকে শুরু করে নবমী পর্যন্ত টানা চার দিন উৎসবের আমেজ থাকবে।
বিজয়া দশমী কবে?
তার পরেই আসবে সেই মন খারাপের দিন। ২১ অক্টোবর, বুধবার বিজয়া দশমী।
দশমীর দিন দেবীকে বরণ, সিঁদুরখেলা এবং বিসর্জনের প্রস্তুতি শুরু হয়। বিভিন্ন জায়গায় শোভাযাত্রা করে প্রতিমা নিয়ে যাওয়া হয় বিসর্জনের জন্য। দেবীর বিদায়ের সঙ্গে শেষ হয় শারদোৎসবের মূল পর্ব।
এ বার দেবীর আগমন গজে, গমন নৌকায়?
দুর্গাপুজোয় দেবীর আগমন এবং গমন নিয়েও রয়েছে প্রচলিত জ্যোতিষশাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা। মহাসপ্তমী এবং বিজয়া দশমীর বার দেখে দেবীর বাহন নির্ধারণ করা হয় বলে প্রচলিত বিশ্বাস।২০২৬ সালে মহাসপ্তমী পড়েছে রবিবার। সেই হিসাবে প্রচলিত গণনা অনুযায়ী, দেবীর আগমন হবে গজে অর্থাৎ হাতিতে।অন্য দিকে বিজয়া দশমী পড়েছে বুধবার। সেই হিসাবে দেবীর গমন হবে নৌকায়।জ্যোতিষশাস্ত্রের প্রচলিত ব্যাখ্যায় গজে দেবীর আগমনকে শুভ বলে মনে করা হয়। এর সঙ্গে সুখ-শান্তি, সমৃদ্ধি এবং শস্যবৃদ্ধির যোগের কথা বলা হয়। কৃষির জন্য অনুকূল পরিবেশ এবং পর্যাপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনার সঙ্গেও এই বাহনের আগমনকে যুক্ত করা হয়। নৌকায় গমন নিয়েও শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা রয়েছে। প্রচলিত মতে, এর সঙ্গে এক দিকে শস্যবৃদ্ধি ও মানুষের মনোবাসনা পূরণের ইঙ্গিত থাকলেও অন্য দিকে অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা বা বন্যার আশঙ্কার কথাও বলা হয়।তবে এগুলি জ্যোতিষশাস্ত্র ও প্রচলিত বিশ্বাসভিত্তিক ব্যাখ্যা, কোনও বৈজ্ঞানিক আবহাওয়া পূর্বাভাস নয়। বাস্তবে বৃষ্টিপাত বা বন্যার পরিস্থিতি নির্ভর করবে আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক পরিস্থিতির উপর।
