শেফিল্ড টাইমস ডিজিটাল ডেস্ক: হরিয়ানার ফরিদাবাদে (Faridabad) চলন্ত গাড়ির ভিতরে ধর্ষণ ও পরে নির্যাতিতাকে রাস্তায় ছুড়ে ফেলার ঘটনায় বিস্ফোরক কিছু তথ্য সামনে আসছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ভোর প্রায় ৩টে নাগাদ রাজা চক এলাকার কাছে, ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটারের (90 KM/H Speed) বেশি গতিতে চলতে থাকা গাড়ি থেকে তাঁকে ছুড়ে ফেলা হয়। রাস্তার ওপর পড়ে মারাত্মক জখম হন ওই তরুণী। মাথা ও মুখে ক্ষত এতটাই গুরুতর যে ১২টিরও বেশি সেলাই দিতে হয়েছে।
এই মুহূর্তে গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি ২৫ বছরের তরুণী। তাঁর মাথা ও মুখে গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এখনও তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে পুলিশ। ফরিদাবাদ পুলিশের (Faridabad Police) এক আধিকারিক জানান, “মহিলার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক। বর্তমানে তিনি কোনও বক্তব্য দেওয়ার মতো অবস্থায় নেই।”
{link}
এই ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতার (Arrest) করেছে পুলিশ। অভিযোগকারিণীর বোনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্বামীর সঙ্গে বিবাদের জেরে তরুণী তখন বাবা-মায়ের বাড়িতে থাকছিলেন। ঘটনার রাতে তিনি সেক্টর ২৩-এ এক বন্ধুর বাড়িতে গেছিলেন। রাত হয়ে যাওয়ায় বাড়ি ফেরার সময় অভিযুক্তরা তাঁকে লিফট দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু নির্দিষ্ট গন্তব্যে না নিয়ে অভিযুক্তরা গাড়ি ঘুরিয়ে গুরুগ্রামের (Gurugram) দিকে নিয়ে যায়। অভিযোগ, সেই চলন্ত গাড়ির ভিতরেই তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। কোনওভাবে ফোন করে বোনকে ঘটনার কথা জানান তরুণী। পরে তাঁর বোন ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে বাদশাহ খান সিভিল হাসপাতালে নিয়ে যান।
চিকিৎসকেরা প্রথমে দিল্লিতে স্থানান্তরের পরামর্শ দিলেও পরিবার ফরিদাবাদের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতরা উত্তরপ্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা, বর্তমানে ফরিদাবাদেই থাকতেন। তাঁরা নির্যাতিতার পরিচিত নন। টেস্ট আইডেন্টিফিকেশন প্যারেড এখনও হয়নি, তাই এই মুহূর্তে অভিযুক্তদের নাম ও ছবি প্রকাশ করা হচ্ছে না।
ফরিদাবাদ পুলিশের মুখপাত্র যশপাল যাদব জানান, “ঘটনায় ব্যবহৃত গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তরা অপরাধের কথা স্বীকার করেছে। তাঁদের আদালতে পেশ করা হবে।” এই নৃশংস ঘটনা ঘিরে ফের একবার শহরের নারী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
{ads}