নিজস্ব সংবাদদাতা: মুদ্রাস্ফীতি, মূল্যবৃদ্ধির মারে জর্জরিত দেশ। বাজারে কমছে পণ্যের চাহিদা। ফলপ্রসূত কমছে উৎপাদনের পরিমাণ। তাছাড়া গত দু’বছর আয়কর ছাড়ের ঊর্ধ্বসীমায় কোনও বদল করা হয়নি। ট্যাক্স স্ল্যাব বা করের হারে বদল করা হলেও সেভাবে স্বস্তি পায়নি মধ্যবিত্ত। এবারের বাজেটে তাই করকাঠামোয় স্বস্তি পাওয়ার আশায় ছিল মধ্যবিত্ত। প্রকাশিত হল অর্থনৈতিক বাজেট ২০২৩। এই বছরের প্রকাশিত বাজেটে মধ্যবিত্তের সেই প্রত্যাশা অবশেষে পূরণ করলেন অর্থমন্ত্রী।
{link}
বাজেটে মধ্যবিত্তকে স্বস্তি দিয়ে বড় অঙ্কের করছাড়ের ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। আয়কর ছাড়ের ঊর্ধ্বসীমা ৫ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭ লক্ষ টাকা পর্যন্ত করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, আগে করছাড়ের সর্বোচ্চ পরিমাণ যেখানে ছিল ২ লক্ষ টাকা। সেটা এবার বাড়িয়ে করা হল ৩ লক্ষ টাকা। নির্মলার ঘোষণা অনুযায়ী, আয়কর ছাড়ের ঊর্ধ্বসীমা ৫ লক্ষ থেকে বেড়ে হল ৭ লক্ষ। আয়করের স্ল্যাবও বদলাল। ০-৩ লক্ষ পর্যন্ত আয়ে কোনও আয়কর দিতে হবে না। ৩-৬ লক্ষ আয়ে কর দিতে হবে ৫ শতাংশ। তবে এই স্ল্যাবে যারা করছাড়ের আওতায় পড়বেন, তাঁদেরও কোনও আয়কর দিতে হবে না। ৬-৯ লক্ষ আয়ে আয়কর দিতে হবে ১০ শতাংশ। ৯-১২ লক্ষ আয়ে কর ১৫ শতাংশ। ১২ থেকে ১৫ লক্ষ আয়ে কর ২০ শতাংশ। ১৫ লক্ষ টাকার বেশি আয়ে কর দিতে হবে ৩০ শতাংশ। আগে আড়াই থেকে ৫ লক্ষ টাকা করে কোনও ট্যাক্স দিতে হত না। ৫-৭.৫ লক্ষে আয়কর ছিল ১০ শতাংশ। ৭.৫-১০ লক্ষ পর্যন্ত আয়ে কর দিতে হত ১৫ শতাংশ। ১০-১২.৫ লক্ষে আয়কর ২০ শতাংশ। ১২.৫-১৫ লক্ষ আয়ে কর ছিল ৩০ শতাংশ।
{link}
শুধু করে ছাড় দেওয়াই নয়। কারকাঠামো এবং আইটি রিটার্ন ফাইল করার প্রক্রিয়াও আরও সরল করেছে নির্মলার সরকার। নতুন এই করকাঠামোয় ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে করদাতাদের। কিন্তু কেউ চাইলে পুরনো রীতিতেও কর দিতে পারেন। এদিন অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, আয়কর ছাড়ের আওতায় এলে ৭ লক্ষ টাকা পর্যন্ত রোজগারে কোনও করই দিতে হবে না। ৯ লক্ষ পর্যন্ত রোজগার হলে কর দিতে হবে মাত্র ৪৫ হাজার টাকা। ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত রোজগারে মাত্র দেড় লক্ষ টাকা কর দিতে হবে।
যার ফলে টানা তিনটি বাজেটে পরপর কোনরকম স্বস্তি না মেলার পর, অবশেষে ২০২৩-এর বাজেটে কিছুটা স্বস্তি পেল মধ্যবিত্তেরা। কোভিড পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসেছে দেশ। তারপর এই বাজেট কার্যত ২০২৪-এর ভোটের আগে নির্মলার মাস্টারস্ট্রোক বলে মনে করছেন রাজনৈতিক ও বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশ। সবশেষে এই বছরের বাজেটে যে কিছুটা হলেও মধ্যবিত্তদের উপর নজর দেওয়া হয়েছে তাই খানিক স্বস্তি দিচ্ছে মানুষকে।
