চুমকী সূত্রধর
বিহারের রাজনীতি সর্বক্ষণই ছকের ঘেরাপটে না পড়ে উলটো পথে হাঁটে। হবে নাই বা কেন? গ্রামীণ রাজনীতির টপ-ডাউন টু রাইট-লেফট সবকিছু নিয়েই যে গভীর জল্পনার মধ্যে থাকে সরকার গঠন আর কেন্দ্রের প্রভাব বিস্তার। তাছাড়াও রাজ্যের অতীত এবং বর্তমান পর্যবেক্ষণ করলেই বোঝা যায় তার ইউনিকনেস।
২০১৫ সালটি খুবই গুরুত্বপূর্ন। একারণেই গুরুত্বপূর্ণ যে সেবারের বুথ ফেরত সমীক্ষাও ঘাবড়ে গিয়েছিল বাজি পালটে যাওয়ার পরিস্থিতি দেখে। টেলিভিশনের পর্দায় তুলে ধরা প্রত্যেকটি সমীক্ষায় চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখানো হয়েছিল বিজেপির নিশ্চিত জয়। তাবড় তাবড় ভোট বিশেষঞ্জরা পর্দায় ঝড় তুলেছিল লালু-নীতীশের ব্যার্থতার বিশ্লেষণ নিয়ে। কিন্তু শেষ মূহুর্তে বিজেপির তরী ডুবিয়েছিল লালু-নীতীশ-কংগ্রেসের সংখ্যা গরিষ্ঠতা। এবারেও সেই একই দৃশ্য নজর কাড়ছে। বুথ ফেরত সমীক্ষার ফলাফল একদিকে এবং শেষ মূহুর্তে ভেলকি দিয়ে গদি ছিনিয়ে নেওয়ার প্রতিযোগিতা অন্যদিকে। যেখানে লালু পুত্র তেজস্বীর গতকাল পর্যন্ত বিহার সরকার গঠন স্থির ছিল সেখানেই একটু একটু করে গদি থেকে পিছিয়ে দিচ্ছে বর্তমানের গণনা।
যে বিষয়গুলি না বললেই নয়, সেগুলি হল রাজ্যটির কঠোরতা, সনাতন পরিস্থিতি, পিছিয়ে পড়া শিক্ষা এবং মৌলিক চাহিদাগুলির অভাব। ব্যাঙ্গাত্মক ভাবে কখনোও কখনোও জঙ্গলরাজেরও তকমা পেয়ে থাকে রাজ্যটি। তবে একেবারেই ফেলে দেওয়া যায় না শেষ ৮ থেকে ১০ বছরের মধ্যে ঘটে যাওয়া উন্নয়নের কিছু ছাপকে। নীতীশের হাত ধরে শেষ কয়েক বছরে বেশ কিছুটা হলেও হেঁটেছে বিহার। স্কুল,কলেজ, ইলেক্ট্রিসিটি, জল মোটামুটি সবই এসেছে বিহারে। কিন্তু এই ভালো দিকগুলিই এক ঝলকে বদলে দেয় শেষ কয়েকমাসের পরিস্থিতি। অতিমারীর প্রকোপ এবং সেই সঙ্গে পরিযায়ী শ্রমিকদের সংখ্যার আন্দাজ পাওয়া, সবটুকুই ২০২০ সালের গণনায় নানা ভাবে অতীত বদলানোর ইন্ধন জুগিয়েছে । করোনা পরিস্থিতিতে উঠে আসা রাজ্যের মানুষের ক্ষোভ পথ দেখিয়েছে অন্তর্বর্তী ভঙ্গুর অবস্থাগুলোর।সেখানে ছিল না স্কুল, কলেজ, জলের উল্লেখ। শুধু ছিল পেটের জ্বালা আর নিঃস্বতার ইতিবৃত্ত্ব। তাই, বর্তমানে জঙ্গলরাজ না থাকলেও এন ডি এ এবং জে ডি ইউ এর প্রতিদ্বন্দী হিসেবে যার অভ্যুর্থান ঘটছে সে হল লালু পুত্র তেজস্বী। তাই ফলাফল যাই হোক না কেন বিহারের রাজনীতিতে উত্তরসূরি হিসেবে তৈরী লালু পুত্র তেজস্বী যাদব।
