প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (PM Narendra Modi) নাম ব্যবহার করে মার্কিন সদর দফতর (Pentagon) থেকে ইসরো (ISRO) পর্যন্ত ই-মেল পাঠিয়ে সিবিআইয়ের (CBI) জালে দিল্লির এক ব্যক্তি। এফআইআরে সিবিআই বলেছে, ই-মেলে এই ব্যক্তিটি সব জায়গায় নিজেকে প্রধানমন্ত্রী মোদীর আশীর্বাদধন্য বলে বর্ণনা করেন। তিনি নাকি দেশীয় প্রযুক্তিতে সামরিক বাহিনীর জন্য জেট ইঞ্জিন তৈরিতে সরকারকে সাহায্য করছেন। এই ঘটনা জানাজানির পরেই সতর্ক হয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তদন্ত চালিয়ে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে।
এই ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (PMO), ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ISRO), হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL), প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO)—এমনকী মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দফতর পেন্টাগনেও ই-মেল পাঠিয়ে একই ধরনের দাবি করেছিলেন। সিবিআইয়ের এফআইআরে বলা হয়েছে, এই সব ই-মেলে প্রধানমন্ত্রীর নাম অপব্যবহার করা হয়েছে।
এই ই-মেলগুলি পাঠানোর প্রায় এক বছর পর মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তের নাম নিশীথ কোহলি, তিনি দিল্লির বসন্তকুঞ্জের বাসিন্দা। গত বছরের মার্চ মাসে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে সিবিআইয়ের কাছে অভিযোগ জানানো হয় যে, কোহলি বিভিন্ন সরকারি দফতরে পাঠানো একটি ই-মেলের অনুলিপি পিএমও-তেও পাঠিয়েছিলেন।
{link}
এফআইআর অনুযায়ী, ওই ই-মেলে কোহলি দাবি করেন যে, তিনি ভারত সরকারকে দেশীয় সামরিক জেট ইঞ্জিন উন্নয়নের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে সহায়তা করতে চান। নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা জোরদার করতে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দফতরের প্রধান সচিব পি কে মিশ্রের নাম উল্লেখ করেন এবং বলেন, এই প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার জন্য তাঁর কাছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আশীর্বাদ ও শুভেচ্ছা রয়েছে। সিবিআইয়ের ভাষায়, প্রাথমিকভাবে এটি প্রধানমন্ত্রীর প্রধান সচিব ও স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর নাম পেশাগত উদ্দেশ্যে অপব্যবহারের ঘটনা বলেই প্রতীয়মান হয়।
ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে সিবিআই একটি প্রাথমিক অনুসন্ধান চালায়। তাতে জানা যায়, কোহলি প্রিমিয়ার এক্সপ্লোসিভস লিমিটেড, অ্যারোনটিক্যাল ডেভেলপমেন্ট এস্টাবলিশমেন্ট (এডিই)-এর ডিরেক্টর এবং ইসরোর চেয়ারম্যানকে ই-মেল পাঠিয়ে জানিয়েছিলেন যে, তিনি দেশীয় সামরিক জেট ইঞ্জিন উন্নয়নে সরকারকে সহায়তা করতে চান। ওই ই-মেলে তিনি লেখেন, এই প্রকল্পটি ডিআরডিও-র অধীন এডিই-র পরিচালনায় এগোবে এবং তাঁর পরিচয় যাচাই করা যেতে পারে প্রধানমন্ত্রী দফতরের মিশ্রের মাধ্যমে— কারণ এ কাজে তাঁর প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আশীর্বাদ ও সমর্থন রয়েছে।
{link}
সিবিআইয়ের নথি অনুযায়ী, নিশীথ কোহলি পরে হাই এনার্জি মেটেরিয়ালস রিসার্চ ল্যাবরেটরি (এইচইএমআরএল)-এর ডিরেক্টর, এইচএএল-এর চেয়ারম্যান এবং ইসরোর চেয়ারম্যানকেও একই ধরনের আরেকটি ই-মেল পাঠান। সেখানে তিনি নিজেকে ভিওয়ানি-স্থিত টেকনোলজিক্যাল ইনস্টিটিউট অব টেক্সটাইল অ্যান্ড সায়েন্সেস (টিআইটিএস)-এর ২০০২ ব্যাচের টেক্সটাইল কেমিস্ট্রি ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে পরিচয় দেন এবং দাবি করেন, সুযোগ পেলে তিনি ইসরো, ডিআরডিও ও ভারত সরকারকে দেশীয় সামরিক জেট ইঞ্জিন উন্নয়নে সহায়তা করতে পারবেন।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, কোহলি একই বক্তব্য উল্লেখ করে আমেরিকার নৌবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ভাইস অ্যাডমিরাল জর্জ এম উইকফ—যিনি পেন্টাগনে কর্মরত— তাঁকেও একটি ই-মেল পাঠিয়েছিলেন। এই ঘটনায় সিবিআই ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ২০১০-এর বেশ কয়েকটি ধারায় কোহলির বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে।
{ads}