ভারতরত্ন বলতে আমারা বুঝি নেতাজি সুভাষ চন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিনয়-বাদল-দিনেশের মত মহাপুরুষ দের এদেরই আমরা চিনে থাকি, যারা ভারতের এক একটি রত্ন। যদিও এনারা দেশ স্বাধীনতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু আরও এমন কিছু ভারতীয় সন্তান আছেন যারা হয়তো দেশ স্বাধীন করেনি কিন্তু তাদের এমন কোনও কাজ যা ভারতমাতা কে গর্বিত করেছে। হাওড়া গ্রামীণ জেলার বাগনান থানা এলাকার খালয়ার বাসিন্দা বছর চল্লিশের সুনিত খাঁড়া। যিনি খালি চোখে মাত্র ৪৭ সেকেন্ডে একটি চালের ওপর ভারতের জাতীয় পতাকা ও জয়হিন্দ লিখে ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসে নাম নথিভুক্ত করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। ছেলেবেলা থেকেই আঁকার প্রতি ঝোঁক ছিল সুনিত এর ,প্রথম হাতে খড়ি তাঁর মায়ের কাছে মাত্র পাঁচ বছর বয়সে। তারপর তিনি একাদশ শ্রেণি থেকে ছাত্র ছাত্রী নিয়ে আঁকা শেখাতে শুরু করেন। তিনি কমার্শিয়াল আর্টে পাস করেন ,এছাড়া অনেক ছাত্র ছাত্রী কে আঁকা শেখান ও। শুধু তাই নয় তিনি সুরভারতী সঙ্গীত থেকে প্রায় ৪০০ জন ছাত্র ছাত্রী কে অঙ্কন জগতে সুযোগ করে দেন।
১৫ই আগস্ট এর দিন জয় হিন্দ এর বদলে যদি চালের ব্যাবহার করে এই রকম অঙ্কন প্রদর্শন করা যায় তাহলে মন্দ হয় না , এটাই ছিল তাঁর প্রয়াশ। শুধু চাল নয় তিল ও ডাল নিয়েও তিনি তাঁর প্রদর্শনী দেখিয়েছেন। তিনি ডালের ওপর শিবলিঙ্গ এঁকে সবাইকে চমকে দিয়েছেন। শুধু ফেব্রিক রং আর তুলি ব্যাবহার করেই ফুটিয়ে তুলেছিলেন ভারতের জাতীয় পতাকা , ১২ ই নভেম্বর তাঁকে পুরস্কৃত করা হয়, সোমবার রাতেই তিনি হাতে পেয়েছিলেন স্বীকৃত পদক ও পেন। সুনিত জানায় ভবিষ্যতে তাঁর ইচ্ছা এই রকম ভবেই কোনও ক্ষুদ্র বস্তুর উপর কিছু এঁকে এশিয়া বুক অফ রেকর্ডস ও ওয়াল্ড রেকর্ডের নাম নথিভুক্ত করা । বাগনানের সেই প্রতিভা আজ বিশ্বের কাছে এক শ্রেষ্ঠ সম্পদ।
