India Rice Export: চলতি বছরে অসাময়িক ও অনিয়মিত বৃষ্টির কারণে ইতিমধ্যেই বেশ কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের ধান চাষ। একইসঙ্গে বাজারে হু হু করে বেড়েছে চালের দাম। যে বিষয়টির উপর লক্ষ্য রেখে বাসমতি চাল ছাড়া সমস্ত ধরণের চাল রফতানি করার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের চাহিদা এবং আবেদনের উপর লক্ষ্য রেখে রফতানি করা হবে বলে জানানো হয় সরকারের পক্ষ থেকে। বিগত মাসে কয়েকটি দেশে রফতানি করার অনুমতি দেওয়ার পর এবার চলতি মাসে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে (UAE) সাদা চাল (Non-Basmati Rice) রফতানি করার সিদ্ধান্ত নিল দেশ।
একটি সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, সোমবার কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশ সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে মোট 75,000 টন নন-বাসমতি সাদা চাল রফতানি করার অনুমতি প্রদান করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর পক্ষ থেকে করা আবেদনের উপর ভিত্তি করেই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে একটি বিজ্ঞপ্তিতে ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ফরেন ট্রেড (DGFT)-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “ন্যাশনাল কো-অপারেটিভ এক্সপোর্টস লিমিটেডের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে মোট 75,000 মেট্রিক টন নন-বাসমতি সাদা চাল রফতানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে” ।
{link}
প্রসঙ্গত, দেশে চলতি কৃষিবর্ষে চাল উৎপাদনের উপর আবহাওয়ার বিরুপ প্রভাব এবং একইসঙ্গে বাজারে চালের উচ্চ হারে মূল্যবৃদ্ধি রোধ করতে বাসমতি চাল ছাড়া সমস্ত রকম সাদা চালের রফতানির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। মূলত দেশের মধ্যে চালের বাড়তে থাকা দাম কে নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল। তবে রফতানির উপর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার সময় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, অন্যান্য দেশে খাদ্য নিরাপত্তার চাহিদা মেটাতে এবং তাদের সরকারের অনুরোধের ভিত্তিতে রফতানি করার ক্ষেত্রে অনুমতি দেওয়া হবে।
সেই ঘোষণা অনুসারে গত মাসে ভারতের পক্ষ থেকে ভুটান, মরিশাস এবং সিঙ্গাপুরে নির্ধারিত পরিমাণের নন-বাসমতি সাদা চাল রফতানি বরাদ্দ করা হয়েছে। ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ফরেন ট্রেডের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবৃতি অনুসারে ভুটানে 79,000 মেট্রিক টন, সিঙ্গাপুরে 50,000 টন এবং মরিশাসে 14,000 টন নন-বাসমতি সাদা চাল রফতানির অনুমতি দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, 2022-23 আর্থিক বছরে দেশ থেকে মোট 2.2 বিলিয়ন মার্কিন ডলারের নন-বাসমতি সাদা চাল রফতানি করা হয়েছিল। শীর্ষ আমদানিকারক দেশগুলির মধ্যে ছিল কেনিয়া, মাদাগাস্কার, বেনিন এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহী। ওয়াকিবহাল মহলের মতে এই দেশগুলির মধ্যে সর্বদাই সাদা চালের একটি বিরাট চাহিদা বর্তমান থাকে।
