জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা থেকে শুরু করে রথযাত্রা বাংলা তথা ভারতবর্ষের মানুষ যে ছবিটা দেখতে অভ্যস্ত তা জনসমুদ্রের ছবি। কিন্তু সেই ছবির দেখা পাওয়া যায়নি শেষ বছরে। কারন সেই অদৃশ্য ভাইরাসের মারনপ্যাঁচ। শেষ বছরে মানুষ ভেবেছিলেন আসছে বছরে হয়ত পরিবর্তন হবে এই ছবির কিন্তু এই বছরেও পূর্ন হলনা সেই আশা। ভক্তদের উপস্থিতি ছাড়াই পুরীতে পালিত হল জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রা উৎসব। আজ, বৃহস্পতিবার প্রথা মেনেই হয়েছে স্নানযাত্রা উৎসব। হাতে গোনা কয়েকজন সেবায়েতের উপস্থিতিতে হয় নিয়ম রক্ষার অনুষ্ঠান। এদিন কালীঘাটেও পালিত হয়েছে মায়ের স্নান।
{link}
ফি বছর স্নান পূর্ণিমার দিনটি ঘটা করে পালিত হয় পুরীতে। এদিন ১০৮ ঘড়া জল দিয়ে স্নান করানো হয় জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার বিগ্রহকে। তার আগে বিগ্রহগুলিকে রত্ন সিংহাসন থেকে নিয়ে আসা হয় স্নানবেদীতে। সোনার ঝাঁটা দিয়ে এই বেদী পরিষ্কার করেন স্বয়ং রাজা। তবে এবার এক রাজ কর্মচারী করোনা সংক্রমিত হওয়ায় রাজা ঝাঁট দেননি। দিয়েছেন তাঁর এক প্রতিনিধি। স্নানের আগে বিগ্রহগুলিকে ঘি, মধু এবং সুগন্ধী তেল মাখানো হয়। তার পরেই হয় স্নান উৎসব।
প্রতিবছর শ্রীবিগ্রহের স্নান দর্শন করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজন আসেন। করোনার কারণে গত বছরও স্নানযাত্রা পালিত হয় ভক্ত সমাগম ছাড়াই।এবারও ভক্ত সমাগমে নিষেধাজ্ঞা থাকায় উৎসব পালিত হয়েছে নমো নমো করে।
{link}
স্নান যাত্রা উৎসব পালিত হয়েছে কালীঘাটে দক্ষিণাকালীর মন্দিরেও। এদিন ভোরে মঙ্গলারতির পর দেবীর পতিত অঙ্গকে ঘি, সুগন্ধী তেল ও গঙ্গাজল দিয়ে স্নান করানো হয়। পরে বেনারসিতে মুড়ে রেখে দেওয়া হয় দেবীর পতিত অঙ্গ। এই অতি বিরল দৃশ্য দর্শনেও বঞ্চিত হয়েছেন ভক্তরা।
{link}
কেবল স্নানযাত্রাই নয়, পুরীর জগন্নাথ মন্দিরেও এবার রথযাত্রা উৎসব পালিত হবে ভক্তদের ছাড়াই। প্রশাসন সূত্রে খবর, বাছাই করা কয়েকজন সেবায়েতই শামিল হবেন রথযাত্রা উৎসবে। ভক্ত নয়, সেবায়েতদের টানা রথেই এবার মাসির বাড়ি যাবেন জগতের নাথ। যার ফলে বছর ঘুরলেও পরিবর্তন হল না পরিস্থিতির। মানুষের কাছে ফিরল না পুরির সেই চেনা ছবি। তবে ফিরবে একদিন না একদিন, সেই আশাতেই বুক বাঁধছেন মানুষ।
.jpeg)
