শেফিল্ড টাইমস ডিজিটাল ডেস্ক: বছরের শেষ দিনে বিহারে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হলেন মাওবাদী সংগঠনের এক শীর্ষ নেতা (Bihar police encounter)। বিহার পুলিশের সঙ্গে ‘এনকাউন্টারে’ মৃত্যু হয়েছে দয়ানন্দ মালাকার ওরফে ছোটুর (Dayanand Malakar aka Chotu)। তিনি উত্তর বিহারের কেন্দ্রীয় জোনাল কমিটির সেক্রেটারি ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। এই ঘটনাকে বড়সড় সাফল্য বলেই দাবি করেছে বিহার পুলিশ।
পুলিশের সূত্র অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যায় স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) গোপন সূত্রে খবর পায় যে, একদল মাওবাদী বেগুসরাই জেলার একটি এলাকায় আত্মগোপন করে রয়েছে (Maoist leader killed)। খবর পাওয়ার পরই দ্রুত পদক্ষেপ করে এসটিএফ ও জেলা পুলিশের একটি দল। ওই এলাকা ঘিরে ফেলে শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। পুলিশের উপস্থিতি টের পেতেই মাওবাদীরা সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করে। এই সময়েই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের দাবি, পালানোর সময় মাওবাদী সদস্যেরা নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে। আত্মরক্ষার জন্য পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। দু’পক্ষের মধ্যে কিছুক্ষণ গুলির লড়াই চলে। এই সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন দয়ানন্দ মালাকার। (Maoist zonal secretary killed) তাঁর সঙ্গে থাকা আরও দুই মাওবাদীকেও আটক করে পুলিশ।
{link}
সংঘর্ষের পর আহত অবস্থায় দয়ানন্দকে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বিহার পুলিশের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করে এই সংঘর্ষের বিষয়টি জানানো হয়েছে। ওই বিবৃতিতে জানানো হয়, এই অভিযানে কোনও পুলিশকর্মী আহত হননি। এসটিএফ (STF) সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত দুই মাওবাদীর কাছ থেকে রাইফেল, একটি পিস্তল এবং বেশ কিছু কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ আধিকারিকদের দাবি, দয়ানন্দ মালাকার মাওবাদী সংগঠনের মধ্যে ‘ছোটু’ নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই উত্তর বিহারের বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় ছিলেন এবং সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাতেন।
পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, দয়ানন্দের বিরুদ্ধে মোট ১৪টি ফৌজদারি মামলা ছিল। খুন, বিস্ফোরণ, ডাকাতি-সহ একাধিক গুরুতর অপরাধে তাঁর নাম জড়িত ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাঁর মাথার দাম ছিল ৫০ হাজার টাকা। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁকে ধরতে চেষ্টা চালাচ্ছিল নিরাপত্তা বাহিনী। বছরের শেষ দিনে এই অভিযানে মাওবাদী সংগঠনের এক শীর্ষ নেতার মৃত্যুতে রাজ্যে মাওবাদী কার্যকলাপে বড়সড় ধাক্কা লাগল বলে মনে করছে পুলিশ প্রশাসন। একই সঙ্গে এই সাফল্য ভবিষ্যতে মাওবাদী দমন অভিযানে আরও গতি আনবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন নিরাপত্তা বাহিনীর আধিকারিকরা।
{ads}