শেফিল্ড টাইমস ডিজিটাল ডেস্ক: রাজনীতি এক আশ্চর্য ব্যাপার। মানুষের মন পেতে রাজনীতিকরা নানাভাবে চেষ্টা করে। এমনকি দেশের প্রধাশ্নমন্ত্রীও ২০২৬ নিধানসভা ভোটের আগে বঙ্গবাসীর কাছে প্রধানমন্ত্রীর খোলা চিঠি দেখে তা স্পষ্ট। চিঠিতে ‘জয় মা কালী’ লিখে লেখা শুরু করেছেন। মোদী লেখা এই চিঠির প্রত্যেকটা শব্দবন্ধ, শব্দচয়ন, লাইন বাংলার রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত লোকসভা নির্বাচনেও দেখা গিয়েছে, ‘জয় শ্রী রাম’ শব্দবন্ধ নিয়ে কীভাবে তপ্ত হয়েছিল বঙ্গ রাজনীতি। তুঙ্গে উঠেছিল রাজনৈতিক সংঘাত। বারবার তৃণমূল-সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলির বক্তব্য ছিল, বাংলার রাজনীতিতে ‘জয় শ্রী রাম’ কখনই গ্রহণযোগ্য নয়। তার পাল্টা হিসাবে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা ‘জয় মা কালী’ স্লোগান দিতে শুরু করেছিল। লোকসভাতেও একাধিক তৃণমূল সাংসদকে এই স্লোগান দিতে দেখা গিয়েছে। পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীকেও দেখা যেত, বাংলায় সভামঞ্চে দাঁড়িয়ে ‘জয় মা কালী’ স্লোগান দিচ্ছেন।
{link}
বাঙালি মানুষ ধর্মপ্রাণ। বাঙালির সেই অস্মিতাকে স্মরণে রেখেই প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন তাঁর স্বপ্নের “সোনার বাংলা”-র নারী, পুরুষ ও শিশুরা আজ চরম বঞ্চনার শিকার। তাঁদের কষ্ট, যন্ত্রণা, বঞ্চনা তাঁর হৃদয়কে ভারাক্রান্ত করছে। তিনি জানান, অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে তিনি পশ্চিমবঙ্গকে সমৃদ্ধ ও উন্নত রাজ্যে রূপান্তরিত করার শপথ নিয়েছেন। “উন্নয়ন ও পরিবর্তনের পথে রাজ্যকে এগিয়ে নিতে হবে”,এমন বার্তাও দেন প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, এক সময় স্বামী বিবেকানন্দ ও শ্রী অরবিন্দ-এর মতো মনীষীদের স্বপ্নে দেখা পশ্চিমবঙ্গ আজ সংকীর্ণ ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতি, হিংসা ও অরাজকতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে রাজ্যের মানুষকে সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, সীমান্তবর্তী রাজ্য হিসেবে পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশের সমস্যা গুরুতর আকার নিয়েছে এবং তা রাজ্যের নিরাপত্তা ও জনজীবনে প্রভাব ফেলছে। একইসঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, নারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা বিজেপির অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি। নির্বাচনের আগে এই বার্তা রাজ্যের ভোটরাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
{ads}