শেফিল্ড টাইমস ডিজিটাল ডেস্ক: জন্মনিয়ন্ত্রণ ও নারী শিক্ষা নিয়ে বলতে গিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের এহেন মন্তব্যে তোড়পাড় হয় রাজ্যরাজনীতি। বুধবার বিধানসভায় বিরোধীদের প্রবল চাপের মুখেও পড়েন মুখ্যমন্ত্রী। শেষমেশ বাধ্য হন ক্ষমা চাইতে। নীতীশ বলেন, আমার কথায় যদিও কারও আঘাত লেগে থাকে, তাহলে তার জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আর যাঁরা আমার ভুল ধরিয়ে দিয়ে সমালোচনা করেছেন, তাঁদের অভিনন্দন জানাই।
{link}
বিতর্কের জন্ম হয় বিধানসভায়, মঙ্গলবার। এদিন জন্ম নিয়ন্ত্রণে নারীশিক্ষার গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে অকৃতদার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিয়ের পর থেকে পুরুষরা রোজ রাতে সঙ্গমে ইচ্ছুক থাকে। মেয়েরাই পারেন তাঁদের সংযত করতে। তাতেই জন্ম নিয়ন্ত্রণ করা অনেক সহজ। তিনি বলেন, বিহারে নারীশিক্ষার প্রসার হয়েছে। শিশুকন্যা যদি শিক্ষিত হয়, তাহলে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণও সহজ হবে। মেয়েদের বিয়ে হলে স্বামীরা রোজ রাতে সঙ্গমে মিলিত হতে চায়। তাতে করে একটি করে সন্তানের জন্ম হয়। কিন্তু পড়াশোনা জানা মেয়েরা সেটা আটকাতে পারে। ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ঠেকানো অনেক সহজ হয়ে পড়বে। এর পরেই সভায় শুরু হয় হট্টগোল। বিজেপির মহিলা নেত্রী নিক্কি হেমব্রম বলেন, মুখ্যমন্ত্রী একটু পরিশীলিত ভাষায় বললে কী ক্ষতি হত! মহিলাদের সম্পর্কে কোনও সম্মানজ্ঞান নেই তাঁর। মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছে জাতীয় মহিলা কমিশন। কমিশনের তরফে বলা হয়েছে, নারী স্বাধীনতা ও মহিলাদের পছন্দ-অপছন্দের ক্ষেত্রে এই জাতীয় মন্তব্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। আমরা এর তীব্র নিন্দা করছি। নীতীশের ক্ষমা চাওয়ার দাবিও জানায় কমিশন। দিল্লি কমিশন ফর উইমেনের চেয়ারপার্সন স্বাতি মালিওয়ালও মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলেন। ঘরে-বাইরে চাপের মুখে পড়ে এদিন বিধানসভায় নীতীশ বলেন, আমি আমার কথা ফিরিয়ে নিচ্ছি। আমার মন্তব্যকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আমি শুধু নারীশিক্ষার কথা বলেছি। আমার বক্তব্যে কেউ আঘাত পেয়ে থাকলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।
