চুমকী সূত্রধর
জাতীয় এবং রাজ্য সড়কে পথ চলতে দুর্ঘটনা একটি নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাড়িয়েছে মানুষের জীবনে। কখনও সেটা বেপরোয়া ভাবে গাড়ি চালানোর কারণে আবার কখন সেটার শিকার হয়ে। দারিদ্রতা, ক্ষুদা, শিক্ষা ইত্যাদি বিষয়ে সরকার ও প্রশাসন কড়া নজরদারি রাখলেও দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে ঠিক তার উল্টোটাই চোখে পড়ছে।
ন্যাশানাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর সাম্প্রতিক তথ্য আনুযায়ী, ২০১৯ সালে প্রায় ৪,৩৭,৩৯৬ টি পথ দুর্ঘটনা ঘটেছে যেখানে প্রায় ১,৫৪,৭৩২ জন মানুষ মারা গিয়েছে এবং ৪,৩৯,২৬২ জন মানুষ আহত হয়েছে। প্রতিদিন মৃত্যু সংখ্যা ছিল প্রায় ৪২৪ জন। মোটামুটি ৬০ ভাগের বেশি দুর্ঘটনা ঘটে অতিরিক্ত গতির কারণে যার ফলে প্রাণহানি হয়েছে প্রায় ৮৬,২৪১ জন মানুষের এবং আহত হয়েছে প্রায় ২,৭১,৫৮১ জন মানুষ। ২০১৯ সালে পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা ২০১৮ সালের মৃত্যুসংখ্যা ১,৫২,৭৮০ এবং ২০১৭ সালের মৃত্যু সংখ্যা ১,৫০,০৯৩ কে ছাপিয়ে গিয়েছে।
এই দুর্ঘটনাগুলির গুরুত্ত্বপূর্ণ কারণ হসেবে প্রথমেই চোখে পড়ে হাইওয়ে গুলোতে গাড়ির গতিবেগের দ্রুত বৃদ্ধি। এই দ্রুত বৃদ্ধির ফলে দেখা যায় বেপরোয়া ভাবে গাড়ি চালানো। আবার মাঝে মধ্যে বহু পুরোনো গাড়ির ব্যাবহারও এই দুর্ঘটনার কারণ হয়। জাতীয় সড়ক সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা অত্যন্ত ক্ষীণ। কখনও সেটায় প্রাণহাণি হয় শুধু মাত্র চালকের আবার কখনও বা চালক সহ রাস্তায় থাকা অন্যান্য মানুষেরও। এছাড়াও ট্রাফিক আইন অমান্য ও লেনদেন তো আছেই। তাই, ফলস্বরুপ,অন্যান্য দুর্ঘটনা গুলোর মধ্যে ফাঁকে পড়ে যাচ্ছে পথ দুর্ঘটনার মত সিরিয়াস বিষয়টি।
শুধুমাত্র যে গাড়ির দ্রুত বৃদ্ধি বা বেপরোয়া গাড়ি চালানোকেই যে দায়ী করা যায় তাই নয়, কখনও কখনও রাস্তার বেমানান গড়ন অথবা কনস্ট্রাকশনে ত্রুটিও একটা বড় কারণ হিসেবে চোখে পড়ে। এছাড়াও দূড়পাল্লার পণ্যবাহী গাড়িগুলির ওপর চাপিয়ে দেওয়া স্বল্প সময়সীমাও এবং আতিরিক্ত মাল বহনও কখনও আসল কারন হিসেবে দায়ী থাকে। নির্দিষ্ট সময়সীমা মাথায় রেখে গাড়ি চালাতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হয় বহু গাড়িচালককে।
তবে কারণ যাই থাকুক না কেনো, ফলাফল যে কতটা ভয়ঙ্কর সেটা খুব সহজেই আন্দাজ করা যায়। মানুষ ছুটছে,গতি তার বড়ই আপন। সেই গতি কখনও তাকে লক্ষ্যে পৌছায় আবার কখনও প্রাণ কেড়ে নিয়ে স্তব্ধ করে দেয়। গতির সঙ্গে এইও স্তব্ধ প্রাণের যে বৈপরীত্য তার কারণ খুঁজবে শেফিল্ড টাইমস।
