তথাগত ঘোষ: Sisters and Brothers of America, It fills my heart with joy unspeakable to rise in response to the warm and cordial welcome which you have given us. I thank you in the name of the most ancient order of monks in the world; I thank you in the name of the mother of religions; and I thank you in the name of the millions and millions of Hindu people of all classes and sects.
আমার আমেরিকাবাসী ভাই ও বোনেরা। ১৮৯৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। World’s Parliament of Religions -এর মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রথম এই পাঁচটি শব্দ উচ্চারণ করেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ। পরবর্তী দুই মিনিট ধরে চলেছিল শ্রোতাদের হর্ষধ্বনি ও করতালি। এই দিনে সম্পূর্ণ বিশ্বের কাছে হিন্দু ধর্মের মাহাত্ম্য তুলে ধরেছিলেন স্বামীজী। যদিও এই মঞ্চ পর্যন্ত পৌঁছাতে দীর্ঘ কঠিন পথ অতিক্রম করতে হয়েছিল স্বামী বিবেকানন্দকে। তাঁর শিক্ষা, দর্শন বাঙালি তথা সম্পূর্ণ বিশ্ববাসীকে জীবনের অন্ধকারে আলোর খোঁজ এনে দিয়েছে। তিনিই শিখিয়ে গিয়েছেন, "বহুরূপে সম্মুখে তোমার ছাড়ি কোথা খুঁজিছ ঈশ্বর? জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর।" ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষার্ধে বিভিন্ন ধর্মমতের মধ্যে পারস্পরিক সুসম্পর্ক স্থাপন এবং হিন্দুধর্মকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান ধর্ম হিসেবে প্রচার করার কৃতিত্ব স্বামী বিবেকানন্দের। আজ আপনাদের জন্য রইল শ্রীরামকৃষ্ণের সেই মহান শিষ্যের কথা।
শ্রীরামকৃষ্ণের সঙ্গে সাক্ষাৎ
জন্ম ১৮৬৩ সালের ১২ জানুয়ারি। ছোট থেকেই ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ও ডানপিটে স্বভাবের। যদিও, শ্রীরামকৃষ্ণের সঙ্গে সাক্ষাৎ অনেক পরে। ১৮৮১ সালে সুরেন্দ্রনাথ মিত্রের বাড়িতে নরেনের গান শুনে মুগ্ধ হয়ে শ্রীরামকৃষ্ণ তাকে দক্ষিণেশ্বরে আমন্ত্রণ করেন। ১৮৮১ খ্রিষ্টাব্দের শেষদিকে অথবা ১৮৮২ খ্রিষ্টাব্দের প্রথম দিকে দুজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে নরেন্দ্রনাথ দক্ষিণেশ্বরে আসেন রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে। এই সাক্ষাৎ নরেন্দ্রনাথের জীবনে একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গে নরেন বলেছিলেন, "তাহাকে একজন সাধারণ লোকের মতো বোধ হইল, কিছু অসাধারণত্ব দেখিলাম না। অতি সরল ভাষায় তিনি কথা কহিতেছিলেন, আমি ভাবিলাম, এ ব্যক্তি কি একজন বড় ধর্মাচার্য হইতে পারেন? আমি সারা জীবন অপরকে যাহা জিজ্ঞাসা করিয়াছি, তাহার নিকটে গিয়া তাহাকেও সেই প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করিলাম, 'মহাশয়, আপনি কি ঈশ্বর বিশ্বাস করেন?' তিনি উত্তর দিলেন- 'হাঁ।' 'মহাশয়, আপনি কি তাহার অস্তিত্বের প্রমাণ দিতে পারেন?' 'হাঁ'। 'কি প্রমাণ? ' 'আমি তোমাকে যেমন আমার সম্মুখে দেখিতেছি, তাহাকেও ঠিক সেইরূপ দেখি, বরং আরো স্পষ্টতর, আরো উজ্জ্বলতররূপে দেখি।’ শ্রীরামকৃষ্ণের এই কথাতেই মুগ্ধ হয়ে যান নরেন্দ্রনাথ। দিনের পর দিন আসতে থাকেন তাঁর কাছে।
{link}
যুক্তি ও ভক্তির লড়াই
যদিও, প্রথমদিকে অবশ্য নরেন্দ্রনাথ রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবকে গুরু বলে মেনে নিতে অস্বীকার করেছিলেন। এমনকি তার চিন্তাভাবনার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ প্রকাশও করেছিলেন। কিন্তু রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের ব্যক্তিত্বের প্রতি তিনি বিশেষভাবে আকৃষ্টও হয়েছিলেন। এর ফলে ঘন ঘন তিনি দক্ষিণেশ্বরে যাতায়াত শুরু করেন। প্রথমদিকে তিনি রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের ভাবাবস্থা ও দেবদেবীর সাক্ষাৎ দর্শনকে ‘কাল্পনিক সৃষ্টি’ ও ‘অলীক বস্তুর অস্তিত্বে বিশ্বাস’ মনে করতেন। ব্রাহ্মসমাজের সদস্য নরেন্দ্রনাথ সেই সময় মূর্তিপুজো, বহুদেববাদ ও রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের কালীপুজো সমর্থন করতেন না। এমনকি অদ্বৈত বেদান্ত মতবাদকেও তিনি ঈশ্বরদ্রোহিতা ও পাগলামি বলে উড়িয়ে দিয়ে সেই মতবাদকে উপহাস করতেন। স্পষ্ট কথায়, নরেন্দ্রনাথ রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবকে পরীক্ষা করতেন। রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবও শান্তভাবে তাঁর যুক্তি শুনে বলতেন, “সত্যকে সকল দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার চেষ্টা করবি।”
১৮৮৪ সালে বাবার মৃত্যুর পর তীব্র অর্থকষ্টের সম্মুখীন হয়ে পড়েন নরেন্দ্রনাথ। ঋণের বোঝা ও পাওনাদারদের তাগাদার মধ্যে তাকে স্বস্তি মেলে শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের সান্নিধ্যে। একদিন নরেন্দ্রনাথ রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের কাছে অনুরোধ করেন, তিনি যেন কালীর কাছে তাঁর পরিবারের আর্থিক উন্নতির জন্য প্রার্থনা জানান। রামকৃষ্ণ পরমহংস দেব তাঁকে বলেন, তিনি যেন নিজে মন্দিরে গিয়ে প্রার্থনা করেন। রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের পরামর্শ অনুসারে, নরেন্দ্রনাথ তিনবার মন্দিরে যান। কিন্তু জাগতিক প্রয়োজনের জন্য প্রার্থনার পরিবর্তে তিনি জ্ঞান ও বিবেক-বৈরাগ্য প্রার্থনা করেন। এরপর নরেন্দ্রনাথ ঈশ্বর-উপলব্ধির জন্য সংসার ত্যাগ করতে মনস্থ করেন এবং রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবকে গুরু বলে মেনে নেন।
{link}
শ্রীরামকৃষ্ণের প্রয়ান ও সন্ন্যাসগ্রহণ
১৮৮৬ সালে প্রয়াত হন শ্রীরামকৃষ্ণ। একই বছরে আঁটপুরে বড়দিনের সন্ধ্যায় নরেন্দ্রনাথ আনুষ্ঠানিকভাবে সন্ন্যাস গ্রহণ করেন। ১৮৮৮ সালে শুরু হয় স্বামীজীর পরিব্রাজক জীবন। পরিব্রাজক জীবনে স্বামী বিবেকানন্দের সঙ্গী ছিল একটি কমণ্ডলু, লাঠি এবং তাঁর প্রিয় দুটি গ্রন্থ - ভাগবদ্গীতা ও ইশানুসরণ। ভারত ভ্রমণ করে ১৮৯৩ খ্রিষ্টাব্দের ৩১ মে শিকাগোর উদ্দেশ্যে বোম্বাই ত্যাগ করেন বিবেকানন্দ। জাপান, চিন, কানাডা হয়ে তিনি আমেরিকার শিকাগো পৌঁছান ১৮৯৩ খ্রিষ্টাব্দের জুলাই মাসে। বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে তিনি বুঝতে পারেন, দেশ কুসংস্কারের বেড়াজালে কত পিছিয়ে আছে। তারপরেই আসে সেই ঐতিহাসিক বক্তব্য।
বিবেকানন্দ ও জামশেদজী টাটার সাক্ষাৎ
স্বামীজী যখন আমেরিকা রওনা হচ্ছেন, তখন তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছিল ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক শিল্পপতির। তাঁর নাম জামশেদজী টাটা। বিবেকানন্দ বরাবরই শিক্ষার উপর বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে এসেছেন। ১৮৯৩ সালের ৩১ ম