নিজস্ব সংবাদদাতা: প্রকাশিত হল ২০২৩ সালে কেন্দ্রের অর্থনৈতিক বাজেট। যার উপর ভিত্তি করে চলবে আগামী এক বছরের ভারতীয় অর্থনীতির মানচিত্র। ২৪-এর লোকসভার আগেই এখানেই কি মাস্ট্রার স্ট্রোক খেলে দিল বিজেপি? রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে হ্যাঁ, এটাই ছিল ২৪-এর লোকসভার আগে নির্মলা সীতারামানের মাস্টারস্ট্রোক। যদিও লোকসভার আগে আরও একটি বাজেট পেশের সুযোগ আসবে। তবে তা কার্যত ভোট অন-পয়েন্ট।
{link}
বাজেটে পেশ হওয়ার পর কী প্রতিক্রিয়া রাজনীতিবিদদের? স্বাভাবিক ভাবেই বিজেপির নেতানেত্রীরা বাজেটের ভূয়সী প্রশংসা করলেও বিরোধীরা তীব্র সমালোচনা করেছেন। এদিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবারের কেন্দ্রীয় বাজেটকে ‘গরিব-বিরোধী বাজেট’ বলে আক্রমণ করেছেন। বুধবার বোলপুরে এক জনসভায় মমতা বলতে শোনা গিয়েছে, ”বাজেট না অন্য কিছু! মুখে বলা হচ্ছে দারুণ নাকি বাজেট হয়েছে। কী দারুণ? একটা কথা বেকারদের জন্য বলা নেই। সব বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।” তিনি দাবি করেন, চলতি আর্থিক বছরের বাজেট ”ফরচুনিস্টিক নয় অপরচুনিস্টিক।” তাঁর কথায়, ”এই বাজেটে আশার আলো নেই। অমাবস্যার অন্ধকার আছে। অ্যান্টি-পুওর বাজেট।” তাঁর দাবি, আধঘণ্টা সময় দিলে গরিব মানুষের বাজেট করে দেখাতেন তিনি।
{link}
বীরভূমের মঞ্চ থেকেই বাজেট নিয়ে কড়া ভাষায় বিজেপির কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমন করেন তিনি। বারংবার ১০০ দিনের টাকা না দেওয়ার ক্ষোভ শোনা যায় মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে। একই সুর শোনা গেছে দেশের আরও বিভিন্ন রাজ্যের রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্বদের মুখেও। কংগ্রেস সাংসদ কে সুরেশে মন্তব্য করেছেন, ”আদানিদের স্বার্থই দেখা হয়েছে এবারের বাজেট। এই বাজের কর্পোরেটমুখী বাজেট।” অন্যদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি এবারের বাজেটকে ‘মধ্যবিত্তের সুবর্ণ সুযোগ’ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, এবারের বাজেটে নারীশক্তির উপরে ফোকাস করা হয়েছে। পাশাপাশি তফসিলি জাতি ও উপজাতিদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। একই ভাবে বিজেপি সাংসদ গৌতম গম্ভীরের মতে, এই বাজেটে স্বস্তি পাবে আমজনতা। যেভাবে আয়কর ছাড়ের ঊর্ধ্বসীমা বাড়ানো হয়েছে তাতে সাধারণ মানুষ সুবিধা পাবেন। এমনই প্রশস্তি শোনা গিয়েছে বাকি গেরুয়া শিবিরের নেতাদের মুখেও। বাজেট নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চর্চা তুঙ্গে, সাধারন মানুষের সুখের চাবিকাঠি আদৌ কি রয়েছে এই বাজেটে?
