শেফিল্ড টাইমস ডিজিটাল ডেস্ক: প্রমাণের অভাবে ছয় মহিলা কুস্তিগিরের দায়ের করা যৌন হেনস্থার মামলায় বেকসুর খালাস ভারতীয় কুস্তি ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতি ব্রিজভূষণ শরণ সিং। একইসঙ্গে প্রমাণের অভাবে বকসুর খালাস পেয়েছেন ফেডারেশনের প্রাক্তন সহকারী সম্পাদক বিনোদ তোমার। বিজেপি নেতা ব্রিজভূষণ শরণ সিংয়ের মুক্তিতে কার্যত বিফলে গেল যন্তর মন্তরে কুস্তিগিরদের আন্দোলন। একটি সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, সোমবার দিল্লির রাউজ অ্যাভিনিউ আনাদলতের অতিরিক্ত মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট অশ্বিনী পানওয়ার জানান, মামলায় যে সমস্ত প্রমাণ পেশ করা হয়েছে সেগুলির ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করা যায়নি। সেই কারণেই দু’জনকেই বেকসুর খালাস করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে অলিম্পিক পদকজয়ী ভিনেশ ফোগাট সহ দেশের একাধিক মহিলা কুস্তিগির ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ করেছিলেন। সেই অভিযোগ গৃহীত না হওয়া এবং তদন্তে গাফিলতির অভিযোগে আন্দোলন শুরু করেন ভারতের প্রথম সারির একাধিক কুস্তিগির। সেই আন্দোলন জাতীয় রাজনীতির অন্যতম বড় ইস্যুতে পরিণত হয়। এমনকি একসময় নিজেদের মেডেল পর্যন্ত গঙ্গায় বিসর্জন দেওয়ার দিকে অগ্রসর হয়েছিলেন। সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপের পর দিল্লি পুলিশ এফআইআর দায়ের করে। তদন্তের শেষে প্রায় ১৫০০ পাতার চার্জশিট আদালতে জমা পড়ে। সেখানে ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫৪, ৩৫৪এ, ৩৫৪ডি এবং ৫০৬(১) ধারায় অভিযোগ আনা হয়। একইসঙ্গে সহ অভিযুক্ত হিসাবে উঠে আসে বিনোদ তোমারের নাম।
মামলার শুনানিতে অভিযোগকারী মহিলা কুস্তিগিরদের পাশাপাশি তদন্তকারী অফিসার, বিশেষ তদন্তকারী দলের (এসআইটি) সদস্য এবং কুস্তি ফেডারেশনের একাধিক কর্তা-সহ ৩০ জনেরও বেশি সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। দীর্ঘ শুনানির পর গত ২ জুলাই আদালত রায় সংরক্ষণ করে। পরে ৩ আগস্ট রায় ঘোষণার দিন ধার্য হয়। সোমবার রায়ে আদালত জানায়, মামলায় যে প্রমাণ ও সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছে, তা দিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করা যায়নি। তাই ব্রিজভূষণ ও বিনোদ তোমর, দু’জনকেই বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার পর আদালত চত্বরেই স্বস্তির সুরে ব্রিজভূষণ বলেন, “আদালত আমাকে খালাস দিয়েছে। আমি সেদিন বলেছিলাম, দোষী প্রমাণিত হলে আমি আত্মহত্যা করব। আজ খালাস পেয়ে আমি মুক্তভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছি।”
যদিও, এই প্রসঙ্গে অভিযোগকারী কুস্তিগিরদের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। তবে, দীর্ঘ লড়াইয়ের পর এই রায় অভিযোগকারীদের জন্য স্পষ্টভাবেই একটি বড় ধাক্কা হতে চলেছে।
