শেফিল্ড টাইমস ডিজিটাল ডেস্ক: ককরোচ জনতা পার্টির সংসদ ভবন অভিযানের দিন ছাত্রদের উপর নির্বিচারে লাঠিচার্জ করেছিল পুলিশ। প্রকাশ্যে এসেছে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধরের একাধিক ভিডিও। এমনকি লাঠির মাথায় পেরেক লাগিয়ে মারধরের বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে। ছাত্রদের উপর পুলিশি অত্যাচারের অভিযোগ নিয়ে দেশের শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন এক আইনজীবী। কিন্তু, একটি সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, CJP -র সংসদ অভিযানে ‘পুলিশি তান্ডব’ -এর অভিযোগ শুনতে নারাজ সুপ্রিম কোর্ট। এই বিষয়টিকে নিয়ে জরুরী শুনানির আবেদন খারিজ করে দিয়েছে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের ডিভিশন বেঞ্চ। এমনকি, পরিবর্তে কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি। সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘আমাদের সময় নষ্ট করবেন না। কোর্টের সময় মূল্যবান।‘ অর্থাৎ, স্পষ্টভাবেই এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ তিনি।
প্রসঙ্গত, নিট-কাণ্ডে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করে সংসদের পথে মিছিল করেছিল সিজেপি। মিছিলে স্বতস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করতে দেখা গিয়েছে ছাত্রছাত্রীদের। তাদের ঠেকাতে লাঠি চালায় পুলিশ। চলে কাঁদানে গ্যাস, জলকামান। সেই নিয়ে ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে ক্ষোভ বাড়ছে।
{link}
এই বিষয়টির পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ মিছিলকারীদের উপরে ‘অত্যাচার’ চালিয়েছে অভিযোগ করে শীর্ষ আদালতের স্বতঃপ্রণোদিত হস্তক্ষেপ চেয়েছিলেন এক আইনজীবী। কিন্তু, এই ঘটনা নিয়ে জরুরি শুনানির আবেদন খারিজ করে দেয় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের ডিভিশন বেঞ্চ। সে দিনের ঘটনার ভিডিয়ো আদালতকে দেখাতে চেয়েছিলেন আবেদনকারী আইনজীবী। প্রধান বিচারপতি সাফ বলে দেন, ‘‘আমাদের সময় নষ্ট করবেন না।’’
প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মামলাকারী আইনজীবী জানান, নিটে প্রশ্নফাঁস, পরীক্ষা পরিচালনা এবং ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (এনটিএ) সংস্কার-সহ একগুচ্ছ বিষয়কে সামনে রেখে প্রতিবাদ করছিলেন পড়ুয়ারা। কিন্তু, সেই সময় প্রধান বিচারপতি আইনজীবীকে থামিয়ে দেন। তাঁকে ‘ধন্যবাদ’ জানিয়ে বসে যাওয়ার অনুরোধ করেন। তখনই ওই আইনজীবী পুলিশের ‘অতিসক্রিয়তা’র অভিযোগ তুলে ভিডিয়োগুলি দেখাতে যান। তিনি দাবি করেন, এই ভিডিয়োগুলি ‘ককরোচ’ দলের সংসদ অভিযানের সময়কার। কী ভাবে পুলিশ শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি আটকাতে লাঠিচার্জ করেছে, তা রয়েছে ওই ভিডিয়োগুলিতে। তবে প্রধান বিচারপতি ভিডিয়োগুলি দেখতে অস্বীকার করেন।
{link}
প্রধান বিচারপতি পরবর্তীতে মন্তব্য করেন, ‘‘ভিডিয়োতে আমাদের কোনও আগ্রহ নেই। আমাদের দেখার সময়ও নেই।’’
স্পষ্টভাবেই ককরোচ জনতা পার্টি ও দেশের শিক্ষার্থীদের সংসদ ভবন অভিযানের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। প্রসঙ্গত, ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠার পিছনেও পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নাম। তিনিই দেশের যুব প্রজন্মকে আরশোলা বলে কটাক্ষ করেছিলেন। তাঁর মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া থেকেই পরবর্তীতে ককরোচ জনতা পার্টির ঘোষণা করেন প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।
