শেফিল্ড টাইমস ডিজিটাল ডেস্ক: সাম্প্রতিককালে এমন ভয়ঙ্কর অগ্নিকান্ডের ঘটনা আর ঘটে নি। আর পাঁচটা দিনের মতোই ব্যস্ততা ছিল বহুতলটিতে। কোচিং সেন্টারে (Lucknow Animation Centre Fire) অ্যানিমেশন শিখছিলেন ছাত্র-ছাত্রীরা। আবার নীচ তলার পেট ক্লিনিকেও লোকজনের আনাগোনা চলছিল। কিন্তু মুহূর্তেই মধ্যেই বদলে গেল ছবিটা। প্রথমে ধোঁয়া, তার কিছুক্ষণেই দাউ দাউ করে জ্বলতে শুরু করে ওই বহুতল। মুহূর্তের মধ্যেই কালো ধোঁয়ায় ভরে যায় আকাশ। সেইসঙ্গে গগনভেদী চিৎকার, কান্না আর বাঁচার আর্তি। সঙ্গে সঙ্গে দমকলের ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছলেও ততক্ষণে ঝলসে যায় বহু তাজা প্রাণ। জানা গিয়েছে, আগুনের ঘটনায় ঝলসে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১৫ জনের। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও ৯ জন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh Fire) লখনউয়ের আলিগঞ্জ এলাকার ঘটনা।
পুলিশ সূত্রে খবর, সোমবার দুপুর প্রায় তিনটে নাগাদ পুরানিয়া এলাকার উষা মেহতা মার্গে অবস্থিত তিনতলা বিল্ডিংয়ে আগুন লাগে। ভবনের নিচতলায় ছিল একটি পেট শপ ও পেট ক্লিনিক (পোষ্যদের জন্য দোকান ও ক্লিনিক)। উপরতলায় চলত গেমিং ও অ্যানিমেশন সংক্রান্ত সফ্টওয়্যার ডেভেলপমেন্টের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। আগুন লাগার পরই মুহূর্তের মধ্যে আগুনের গ্রাসে চলে যায় গোটা বিল্ডিং। প্রাণ বাঁচাতে অনেকেই জানালা দিয়ে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন, কেউ কেউ উপরতলা থেকে ঝাঁপও দেন। ইতিমধ্যে সেইসব মর্মান্তিক ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে গিয়েছে। খবর পেয়েই দমকল, পুলিশ, এনডিআরএফ, এসডিআরএফ এবং সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। রাত পর্যন্ত অভিযান চলেছে বলে জানা গিয়েছে। জানা গিয়েছে, উদ্ধারকারী দল পাশের বিল্ডিংয়ের ছাদ ব্যবহার করে ওই বিল্ডিংয়ে প্রবেশ করেন। শুধু তাই নয়, ভিতরে ঢোকার জন্য দেওয়ালও ভাঙা হয়।পুলিশ সূত্রে খবর,, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে অন্তত ২১ থেকে ২২ জনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু, তাঁদের মধ্যে ১৫ জনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তাঁদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। মৃতদের মধ্যে পুরুষ ১২ জন এবং মহিলা তিন জন বলে জানা গিয়েছে। সকলের বয়স ২০ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে।
.jpeg)
