নিজস্ব সংবাদদাতাঃ মনের জোর থাকলে সবকিছু বাধা পেরিয়ে নিজের লক্ষ্যে পৌঁছানো যায়। এমনটাই প্রমাণ করলেন ভগবান সিংহ, উত্তরাখণ্ডের হেমকুন্ডু পাহাড়ে উঠলেন দুই পা ছাড়া, নিজের অদম্য মনোবলকে সঙ্গে করে দুই হাতে ভর দিয়ে পৌঁছে গেলেন পাহাড় শিখরে। ১৯শে জুলাই থেকে তিনি যাত্রা শুরু করেছিলেন, শনিবার পাহাড়ের শিখরে পৌছান তিনি।
{link}
ভগবান লুধিয়ানার বাসিন্দা। আর পাঁচজনের মতোই সুস্থ স্বাভাবিক ছিলেন এক সময়। কিন্তু বছর দশেক আগে ট্রেন দুর্ঘটনায় বদলে যায় জীবন। প্রাণে বাঁচলেও খোয়া যায় দুই পা। যদিও অন্যদের মতো মনের শক্তি হারাননি ভগবান। অসহায় বোধ করেননি। নতুন কঠিন জীবনকে গ্রহণ করেছেন। তবে পাহাড় চড়ার ইচ্ছে জেনে বউ ও পরিবারের অন্য সদস্যরা বেঁকে বসেছিলেন। তাঁরা একা ছাড়তে চাননি ভগবানকে। যদিও তিনি জেদ ধরেন, ১৫ হাজার ফুট উচ্চতার গন্তব্য হেমকুণ্ডে একাই যাবেন। বাস্তবে সেই কাজ করে দেখালেন যুবক। গত ১৯ জুলাই হেমকুণ্ডের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। শনিবার পৌঁছান হেমকুণ্ড তীর্থের শীর্ষস্থানে। খাতায় কলমে যার উচ্চতা ১৫ হাজার ২২৫ ফুট। রবিবার সুনীল নেগি নামের এক ব্যক্তি টুইটারে ভগবানের পাহাড় চড়ার ভিডিও টুইট করেন। যা ভাইরাল হয়। যা দেখে যুবকের আত্মবিশ্বাসকে কুর্নিশ জানিয়েছেন সকলেই। নেটিজেনদের বক্তব্য, সুস্থ সবল মানুষেরও এতখানি মনের জোর নেই, যা করে দেখালেন লুধিয়ানার ভগবান। আর ভগবান নিজে জানিয়েছেন, গোটা সফর তাঁর কখনও মনে হয়নি যে, তাঁর পা নেই। বলেন, “মনের শক্তি আর আত্মবিশ্বাসই আমাকে এত দূর টেনে নিয়ে এসেছে।”
{link}
যেখানে সুস্থ সবল মানুষেরই পাহাড়ে উঠতে হাফ উঠে যায়, সেখানে কেবল দুহাত এর উপর ভর করে ১৫ হাজার ফুট উচ্চতায় উঠলেন ভগবান সিংহ। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন একেবারে অসুবিধা হয়নি পাহাড়ে উঠতে, কখনো মনে হয়নি তার দুটি পা নেই। দশ বছর আগে ট্রেনে কাটা পড়ে যায় তার পা, তবে তিনি প্রাণে বেঁচে যান। নাম তার ভগবান, হয়তো সেই কারণে এই অসাধ্য সাধন করতে পেরেছেন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
