শুধুমাত্র বঙ্গভূমি নয়, দেশের অন্য সমস্ত রাজ্যেও নিজেদের ভীত গড়ছে তৃণমূল। সেই কাজেই একুশের বিধানসভা ভোট শেষ হওয়ার পরেই কোমর বেঁধে নেমে পড়েছেন ঘাসফুলের সমস্ত শীর্ষ নেতৃত্বেরা। এইরকমই একটি রাজ্য গোয়া, যেখানেই ইতিমধ্যেই নিজেদের সাংগঠনিক ঘাঁটির ভীত শক্ত করে গড়ে তুলেছে তৃণমূল শিবির। সেই সংগঠনের হালহকিকত খতিয়ে দেখতেই এবার গোয়া যাচ্ছেন স্বয়ং তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! তৃণমূলের একটি সূত্রের খবর, চলতি মাসের শেষের দিকেই গোয়ার উড়ান ধরতে পারেন মমতা। সেখানে সংগঠনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে করতে পারেন বৈঠক। তৃণমূল নেত্রীর উপস্থিতিতে কংগ্রেস ছেড়ে কয়েকজনের দলবদলের সম্ভাবনাও রয়েছে।
{link}
তৃতীয়বারের জন্য বাংলার কুর্সিতে বসে গোটা দেশে সংগঠন বিস্তারের সিদ্ধান্ত নেয় তৃণমূল কংগ্রেস। উত্তর পূর্বের ছোটো ছোটো রাজ্যগুলির পাশাপাশি আরব সাগরের তীরের এই ছোটো রাজ্যটির প্রতিও শ্যেনদৃষ্টি হানে তৃণমূল। তার ফলও ফলেছে। উত্তর পূর্বের ত্রিপুরার পাশাপাশি ইতিমধ্যেই গোয়ায়ও মজবুত সংগঠন গড়ে তুলে ফেলেছে তৃণমূল। মাস খানেক আগেই গোয়ার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কংগ্রেস বিধায়ক লুইজিনহো ফালেইরো তৃণমূলে যোগ দেন। তখনই তিনি বলেছিলেন, কংগ্রেস পরিবারকে একত্রিত করতে এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সব চেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী করে তুলতে তিনি যোগ দিচ্ছেন তৃণমূলে।
মঙ্গলবার ভালভোই ব্লক কংগ্রেস কমিটির প্রায় দুশো কর্মীকে নিয়ে ব্লক সভাপতি দশরথ মান্দ্রেকর এবং আরও আটজন পদাধিকারী যোগ দেন তৃণমূলে। এঁদের মধ্যে ছিলেন রাজ্য মহিলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়া রাঠোরও।
{link}
এঁদের মধ্যে একমাত্র লুইজিনহো কংগ্রেস ছেড়ে কলকাতায় এসে যোগ দিয়েছেন তৃণমূলে। তবে কংগ্রেসের বাকি নেতা যাঁরা তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে পরিচয় নেই তৃণমূল নেত্রীর। তাঁদের সঙ্গে পরিচয় করার পাশাপাশি সেখানে সংগঠনের হালহকিকতও খতিয়ে দেখবেন তৃণমূল নেত্রী। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মমতা গোয়া গেলে ফের এক প্রস্ত ভাঙবে কংগ্রেস। আরব সাগরের তীরের ছোট্ট এই রাজ্যে কংগ্রেসেক সাইনবোর্ডে পরিণত হয়ে যাওয়াটাও বিচিত্র নয়!
সবের পিছনে লক্ষ্য একটাই- চব্বিশে দিল্লিজয়, সেক্ষেত্রে একটা বড়ো ফ্যাক্টর হতে চলেছে জোট। কিন্তু যেভাবে নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি করেচ চলেছে তৃণমূল তাতে কিন্তু শক্তিক্ষয় হচ্ছে কংগ্রেসের। সেইভাবে দেখলে কংগ্রেস কিন্তু জোটের একটি মূল ও প্রধান ভীত। তারা তৃণমূল কংগ্রেসের এহেন কাজকর্ম আদৌ মেনে নেবেন তো?
