বিজেপির মুসলিম ভোট না পাওয়ার কি কারণ? তা ব্যাখ্যা করলেন স্বয়ং গেরুয়া নেতৃত্বই! বিজেপি নেতা সুব্রত পাঠক বলেন, কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা তুলে নেওয়া, অযোধ্যায় মন্দির নির্মাণের জন্য মুসলিম নাও পেতে পারে বিজেপি। ভোটের আগে দলেরই এক নেতার এহেন মন্তব্যে বেশ বিপাকে পদ্ম নেতৃত্ব। বিজেপি যে বরাবর হিন্দুত্ববাদ কে সমর্থন করে আসছে তা সকলের কাছেই স্পষ্ট। কিন্তু দলের নেতৃত্বেরই এহেন মন্তব্যের কারনে বেশ অস্বস্তিতে পড়েছে পদ্ম শিবির।
নতুন বছরের গোড়ার দিকে ভোট হওয়ার কথা উত্তর প্রদেশে। ওই নির্বাচনে বিজেপিকে টেক্কা দিতে মুসলিম ভোট নিজেদের ঝুলিতে টানার চেষ্টা করছেন সমাজবাদী পার্টি নেতা অখিলেশ যাদব। তাই মুসলিম ভোট যে গেরুয়া ঝুলিতে আসবে না, তা একপ্রকার নিশ্চিত। কেন মুসলিম ভোট গেরুয়া ঝুলিতে আসবে না, তার কারণ ব্যাখ্যা করলেন দলেরই নেতা সুব্রত পাঠক।
{link}
এদিন নিজের কেন্দ্র কনৌজে প্রচার করেছিলেন সুব্রত। সেখানেই এক জনসভায় তিনি বলেন, আমরা মুসলিম ভোট পাব না। তার কারণ আমরা কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা তুলে দিয়েছি। আমরা অযোধ্যা, কাশিতে মন্দির বানিয়েছি। এবং মথুরায়ও বানাব। যেসব মানুষ সন্ত্রাসবাদের সমর্থক, যারা পাকিস্তানকে সমর্থন জানিয়ে স্লোগান দেয়, শরিয়ত আইন চালাতে চায়, তাদের ভোট বিজেপি চায় না।
{link}
উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে হিন্দুত্ববাদ এক বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। নয়ের দশকের প্রথম দিকে রাম জন্মভূমি আন্দোলনের সময় বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আদবানি করেছিলেন রথযাত্রা। তাতে ব্যাপক সাড়া পেয়েছিল গেরুয়া শিবির। আসন্ন নির্বাচনের আগেও ঠিক একই কায়দায় হিন্দুত্বে শান দিচ্ছে বিজেপি। প্রচারে বেরিয়ে মথুরায় মন্দিরের কাজের কথাও তুলে ধরছেন বিজেপি নেতারা। অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণ এবং কাশী বিশ্বনাথ মন্দির করিডোর নিয়েও জোরকদমে প্রচার করছেন তাঁরা। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এভাবেই হিন্দু মন জয় করতে চাইছেন পদ্ম নেতৃত্ব।
উত্তরপ্রদেশে মোট ভোটের ১৯ শতাংশ মুসলিম ভোট। সেই ভোট কুক্ষিগত করতে বিজেপির পাশাপাশি লড়ছে অখিলেশের সমাজবাদী পার্টি এবং মায়াবতীর বহুজন সমাজবাদী পার্টি। তবে সংখ্যালঘু পরিবারের কাছে গিয়ে বিজেপি কেবল সরকারি প্রকল্পের সুবিধার কথাই তুলে ধরছে। রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক কাজকর্মের মাধ্যমে সংখ্যালঘু মন জয় করতে চাইছে গেরুয়া শিবির। যদিও সেই ভোট পাওয়া যাবে না বলেই জানিয়েছেন সুব্রত। তাঁর সাফ কথা, মুসলিম ভোট পাবে না বিজেপি। তার মুখ দিয়ে অজান্তেই হোক বা জেনে শুনেই হোক না কেন অধিকাংশ রাজনীতিবিদদের মতে সত্যি কথা বেরিয়ে গিয়েছে। অন্তত একটা বৃহৎ অংশের রাজনীতিবিদ এটাই মনে করছেন।
