বর্তমানে দেশের যুব সমাজের মধ্যে এই রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্বের জনপ্রিয়তা বিপুল। তার বক্তৃতা শুনতেই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন বহু দেশবাসী। সেই বরাবর বামপন্থী রাজনীতিতে বিশ্বাসী কানাইয়া কুমার যোগ দিতে চলেছেন কংগ্রেসে। সম্পূর্ন সত্যি না হলেও অন্তত এমনই জল্পনা ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে। তবে ঠিক কী কারণে তিনি বামপন্থা ছেড়ে দক্ষিণপন্থার দিকে ঝুঁকলেন, তা নিয়েও উঠছে নানা গুঞ্জন।
এক সময় রাজনৈতিক মহলে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন জেএনইউয়ের তরতাজা তরুণ কানাইয়া কুমার। পরে তিনি যোগ দেন সিপিআইয়ে। বামপন্থী এই ছাত্রনেতার জ্বালাময়ী বক্তৃতা ঝড় তোলে তরুণ মনে। আট থেকে আশি আজও মুখিয়ে থাকেন কানাইয়া কুমারের ভাষণ শুনতে। এহেন তরুণই দিন কয়েকের মধ্যেই কংগ্রেসে যোগ দিতে চলেছেন বলে সূত্রের খবর। ইতিমধ্যেই কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধির সঙ্গে তাঁর কয়েক প্রস্ত আলোচনাও হয়েছে।
{link}
কানাইয়া কুমারকে কংগ্রেস রাজনীতিতে নিয়ে আসছেন ইলেকশন স্পেশালিস্ট প্রশান্ত কিশোর ওরফে পিকে। তিনিই বামপন্থী ওই ছাত্র নেতার সঙ্গে কথা বলেন। শোনা যাচ্ছে, বিজেপি-বিরোধী জোট শক্তিশালী করতেই পিকে তাঁকে কংগ্রেস যোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। রাজ্যের ক্ষেত্রে বিভিন্ন আঞ্চলিক দল রাজ করলেও, কেন্দ্রের লড়াই মূলতঃ কংগ্রেস বনাম বিজেপি। তৃতীয় ফ্রন্টের ধারণা বেশ কয়েকবার দানা বেঁধেছিল বটে, তবে তার পরিণতি বিশেষ সুখদায়ক নয়। ইলেকশন স্পেশালিস্ট প্রশান্ত কিশোর এটা বুঝেছেন বিজেপি বিরোধী জোটের প্রয়োজনে বিভিন্ন আঞ্চলিক দলের প্রয়োজন হলেও, লিডিং পয়েন্টে থাকতে হবে কংগ্রেসকে। কারণ ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনে অন্তত ২৫০টি আসনে লড়াই হবে কংগ্রেস এবং বিজেপির। তাই বিজেপিকে মাত দিতে গেলে যে কংগ্রেসকেই শক্তিশালী করতে হবে, তা ভালোই বুঝেছেন ইলেকশন স্পেশালিস্ট। সেই কারণেই তিনি ঘুঁটি সাজাতে শুরু করেছেন বলে ধারণা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের। শুধু কানাইয়া কুমার নন, আরও বিভিন্ন দলের আরও বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় নেতা কিংবা নেত্রীকে পিকে কংগ্রেসে যোগদান করাতে চলেছেন বলেও জল্পনা ছড়িয়েছে। এখন শেষ পর্যন্ত জল্পনা বাস্তবে পরিনত হয় কি না, তাই লক্ষনীয় বিষয় হবে রাজনৈতিক ময়দানে। যদি হয়, তাহলে তা যে কার্যত তোলপাড় আনতে পারে দেশীয় রাজনীতিতে তাও কার্যত স্পষ্টতই ধরে নেওয়া যায়।
