আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ছাড়া বিরোধী ঐক্যের জোট যে স্থায়ী হবে না, তা আরও একবার স্পষ্ট করে দিলেন কংগ্রেস নেতা কপিল সিব্বল। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কংগ্রেস ছাড়া ইউপিএ আত্মাবিহীন দেহের মতো। বর্তমান সময়ে কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে সিব্বলের ঠান্ডা লড়াই চলছে, তা সত্ত্বেও তিনি স্পষ্ট বুঝিয়ে দিলেন, তিনি কংগ্রেসে রয়েছেন। কংগ্রেসে থাকছেন এবং আগামী দিনেও কংগ্রেসেই থাকবেন।
বুধবারই এনসিপি নেতা শারদ পাওয়ারের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে পাওয়ারের সঙ্গে সহমত পোষণ করে তিনি বলেন, বর্তমানে ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে কেউ লড়াই করছেন না। সেই কারণে বিকল্প শক্তি গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, ইউপিএর বর্তমানে কোনও অস্তিত্বই নেই।
{link}
তবে কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে মমতা যেভাবে বিজেপি-বিরোধী ঐক্য গঠন করতে চাইছেন, তা যে সম্ভব নয়, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন কংগ্রেস নেতারাও। কংগ্রেস নেতা কেসি বেণুগোপাল বলেন, কংগ্রেস ছাড়া বিজেপি বিরোধিতা স্বপ্নের মতোই। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জনে চৌধুরী বলেন, ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় এসেছিল তৃণমূল তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কংগ্রেসের গায়ে বিদেশি ছাপ মারতে বিজেপির সুরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কথা বলছেন বলেও অভিযোগ করেন অধীর।
মমতার কড়া সমালোচনা করেছেন মহারাষ্ট্রের কংগ্রেস নেতারাও। তাঁদের বক্তব্য, কোনও রাজনৈতিক দল যদি রাজনৈতিক লাভ ও ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথা চিন্তা না করে তাহলে তারা প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে রাহুল গান্ধির সমালোচনা করতে পারে না। কংগ্রেসই গণতন্ত্রের একমাত্র বিকল্প বলে দাবি করেন মহারাষ্ট্রের ওই মন্ত্রী। যার ফলের বর্তমানে একথা স্পষ্ট যে কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস যেভাবে জাতীয় কংগ্রেসের শক্তিক্ষয় ঘটাচ্ছে তা কোনভাবেই ভালো চোখে দেখছেন না কংগ্রেস নেতৃত্বেরা। আসন্ন সময়ের কেন্দ্রের রাজনৈতিক চিত্র অনেকটাই অস্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এইভাবে চলতে থাকলে যে বিরোধী জোট জোর ধাক্কা খাবে সেই কথাও স্পষ্ট। সেই বুঝেই রাজ্যের একটা অংশের রাজনীতিবিদদের মতামত, বামন হয়ে চাঁদে হাত বাড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন মুখ্যমন্ত্রী।

