আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে বিজেপি কে আসন থেকে সরানোর উদ্দেশ্যে লড়াই শুরু করেছে দেশের প্রায় অধিকাংশ রাজনৈতিক দলই। তার মধ্যে একটি দল তৃণমূল কংগ্রেস। যে দল ইতিমধ্যেই বঙ্গের বাইরেও বিভিন্ন রাজ্যে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু কংগ্রেস ছাড়া বিজেপিকে হারানো দিবাস্বপ্ন ছাড়া আর কিছুই নয়। তৃণমূল সেই স্বপ্ন দেখছে। ভারতীয় রাজনীতির এই বাস্তবটা সবার কাছে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। বুধবার একথা বললেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল। এদিন মুম্বইয়ে এনসিপি নেতা শারদ পাওয়ারের সঙ্গে বৈঠকের পরে কংগ্রেসকে কটাক্ষ করেন তিনি। সেই কটাক্ষের জবাবেই একথা বলেন বেণুগোপাল।
বিজেপি-বিরোধী জোট গড়তে গিয়ে কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল যে আদতে গেরুয়া শিবিরকেই সুবিধা করে দিচ্ছে, এদিন তা স্পষ্ট করে দেন বেণুগোপাল। তিনি বলেন, সবার কাছে এটাও পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে তৃণমূল কার সুবিধা করে দিচ্ছে। আর তৃণমূল আদতে কী চাইছে। মুখে বিজেপি বিরোধিতার কথা বললেও, তৃণমূল বিজেপিকেই সাহায্য করছে বিভিন্ন রাজ্যে। কংগ্রেস ভেঙে বিজেপির সুবিধা করে দিচ্ছে। বিভিন্ন রাজ্যে বিরোধী ভোটে ভাঙন ধরিয়ে দিচ্ছে তৃণমূল।
{link}
পাওয়ারের কথার রেশ ধরে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, দেশে যে ফ্যাসিজম চলছে, তার বিরুদ্ধে একটি বিকল্প শক্তিশালী বিকল্প তৈরি করতে হবে। বিজেপির বিরুদ্ধে কেউ একা লড়াই করতে পারবে না। প্রয়োজন একটি শক্তিশালী মঞ্চের। এরপরই মমতা তাঁর কথা রেশ ধরে শক্তিশালী ঐক্য গড়ার কথা বলেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে মমতা বলেন, ইউপিএর কোনও অস্তিত্বই নেই।
{link}
ঘটনায় কংগ্রেস-তৃণমূলের সংঘাত আরও বাড়ল বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ। তাঁদের মতে, ২০১৪এর লোকসভা নির্বাচনের আগে বিরোধী ঐক্যে ফাটল আরও চওড়া হল। কংগ্রেসকে সরিয়ে তৃণমূল প্রধান বিরোধী দল হয়ে ওঠার চেষ্টা চালাচ্ছে। কংগ্রেসের প্রশ্ন, মাত্র একটি রাজ্যে প্রতিনিধিত্ব করে কি সম্ভব বিজেপির বিরুদ্ধে ৫৪৩ আসনে লড়াই করা? ত্রিপুরায় কংগ্রেস ভেঙে ২০ শতাংশ ভোট পেয়েই যদি তৃণমূল মনে করে দেশে বিজেপির বিকল্প হয়ে উঠছে, তাহলে মুর্খের স্বর্গে বাস করছেন তাঁরা। যদিও এই কথার মধ্যে বাস্তবিক যুক্তিও রয়েছে, কারন বিজেপি ব্যাতীত দেশে সমস্ত রাজ্যে সংগঠন রয়েছে একমাত্র কংগ্রেসের। সেই কংগ্রেসের সংগঠনই বিভিন্ন রাজ্যে গিয়ে ভেঙে দিচ্ছে তৃণমূল। তা ভেঙে গড়ছেন নিজেদের সংগঠন। যাতে সুবিধা হচ্ছে বিজেপিরই। তবে কি জেনেশুনে নিজেই নিজের পায়ে কুড়ুল মারছেন তৃণমূল নেত্রী?
