গোয়াকে ঘিরেই তৃণমূলের বুকে এখনও রয়েছে কেন্দ্রে প্রভাবে ফেলার স্বপ্ন। তৃণমূল স্বপ্ন দেখবে, দেখুক। তবে তা কোনও দিন বাস্তবে হবে না। এ কথা জানিয়ে দিলেন গোয়া কংগ্রেসের মুখপাত্র তুলিও ডি সুজা। প্রসঙ্গ গোয়ায় তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেসের জোট। এই প্রসঙ্গেই গোয়ায় প্রকাশ্যে তৃণমূল কংগ্রেসকে কটাক্ষ করেছেন তিনি। তিনি আরও জানিয়েছেন, কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত শক্তি। তাই তৃণমূলের হাত ধরবে না। গোয়ায় কংগ্রেস একাই বিজেপিকে হারাতে পারে বলেও দাবি তাঁর। তিনি বলেন, চাইলে তৃণমূল জোটে যোগ দিক।
মাসকয়েক আগে গোয়ায় পা রেখেছে তৃণমূল। ইতিমধ্যেই গোয়ার প্রাক্তন দুই মুখ্যমন্ত্রী কংগ্রেস ছেড়ে যোগ দিয়েছেন তৃণমূলে। সমাজের বিশিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তিত্বও নাম লিখিয়েছেন তৃণমূলের খাতায়। বিভিন্ন দলের আরও কিছু মানুষকে তৃণমূলে টানার চেষ্টা করছেন জোড়াফুল নেতৃত্ব। ইতিমধ্যেই সংগঠনের কাজ দেখতে দ্বিতীয় দফায় রবিবার গোয়া গিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। সেখানে তৃণমূলের জোটে শামিল হওয়ার প্রস্তাব দেন কংগ্রেসকে।
তৃণমূল নেত্রীর প্রস্তাব পত্রপাট খারিজ করে দিয়েছে কংগ্রেস। কংগ্রেসের দাবি, বিজেপিকে মানুষ এই পাঁচ বছরে দেখে নিয়েছে। তাদের প্রতি গোয়াবাসী তিতিবিরক্ত। বিকল্প হিসেবে তাঁরা কংগ্রেসকে বেছে নেবেন। বিজেপি যেভাবে গত নির্বাচনে সরকার গড়েছিল, তার জবাব দেবেন গোয়াবাসী। মাত্র দেড় মাস আগে গোয়ায় এসে কংগ্রেসকে ভেঙে যতই লম্ফঝম্প করুক, তৃণমূল কোনও ফায়দা তুলতে পারবে না।
{link}
গোয়া কংগ্রেসের মুখপাত্র তুলিও ডিসুজা দলীয় সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বলেন, গোয়ায় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত শক্তি। মানুষের বিশ্বাস রয়েছে কংগ্রেসের প্রতি। তাই মাত্র দেড় মাস আগে গোয়ায় পা দিয়ে তৃণমূল যে স্বপ্ন দেখছে, তা কোনওদিন বাস্তবে পরিণত হবে না। কংগ্রেস নেতারা যে প্রস্তাব দিয়েছেন, তা অত্যন্ত হাস্যকর বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
{link}
গোয়ায় কংগ্রেস তৃণমূলের সঙ্গে জোটে যাবে না বলেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন ডিসুজা। তিনি বলেন, তৃণমূল বিজেপিকে হারাতে চাইছে, নাকি বিজেপিকে সরকার গড়তে সাহায্য করতে ওরা এসেছে, তা স্পষ্ট নয়। তৃণমূল যা করছে, তাতে বিরোধী জোট দুর্বল হবে। বিজেপির হাত শক্ত হবে। গোয়ায় তৃণমূলের কোনও শক্তিই নেই। দু চারজনকে ভাঙিয়ে দলে নিয়ে তৃণমূল মনে করছে বিরাট শক্তিশালী হয়েছে, তা ভুল। কংগ্রেস একাই বিজেপির বিরুদ্ধে লড়বে। বিজেপিকে হারিয়ে সরকারও গড়বে। অর্থাৎ একথা স্পষ্ট যে গোয়ায় কোনভাবেই তৃণমূলের সাথে জোট করবে না কংগ্রেস। তার পিছনে যথেষ্ট কারনও রয়েছে। এবং গোয়া জয়ের জন্য যে তৃণমূল কতোটা বদ্ধপরিকর তাও আরও একবার স্পষ্ট হল। কিন্তু এই পদক্ষেপ বড়োই অদ্ভুত সাধারন মানুষের কাছে। যে সৈনদল ভেঙে নিজ সৈনদল গড়া, তাদেরকেই বন্ধুত্বের প্রস্তাব! এহেন পদক্ষেপের প্রভাব কি আদৌ তৃণমূলের ভাবমূর্তির উপর পড়বে না? প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহলে।
