দেশে ক্রমশ বাড়তে থাকা দিনের সাথেই নিজেদের শক্তি বাড়িয়ে তুলছে তৃণমূল। মূলত কেন্দ্রে বিজেপি বিতাড়নের লক্ষ্যে নামার কথা বললেও যেন কার্যত কংগ্রেসেরই শক্তি ক্ষয় করছেন তারা। তার উপর আবার আসন্ন বিশ্ব বাংলা বাণিজ্য সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর পরেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা। কী কারণে রাজ্যের একটি বাণিজ্য সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হল প্রধানমন্ত্রীকে? উত্তরও মিলেছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, মোদির সঙ্গে রাজনৈতিক বোঝাপড়ার দিকেই হাঁটছেন তৃণমূল নেত্রী!
{link}
চারদিনের দিল্লি সফর সেরে বৃহস্পতিবারই কলকাতায় ফিরেছেন মমতা। এই দফার সফরে তিনি বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। তখনই মমতা বিশ্ব বাংলা বাণিজ্য সম্মেলনে নরেন্দ্র মোদিকে আহ্বান জানান। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, একুশের বিধানসভা নির্বাচনের পর মমতার পাখির চোখ গোটা দেশে তৃণমূলের পক্ষ্ম বিস্তার। সেটা করতে গিয়েই পদে পদে বাধা পেতে হচ্ছে তৃণমূলকে। বিজেপি শাসিত ত্রিপুরায় তো রীতিমতো অশান্তিও হয়েছে একাধিকবার। স্বাভাবিকভাবেই বারবার ধাক্কা খেয়েছে সংগঠন বিস্তারের প্রক্রিয়া।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, কংগ্রেস ভাঙিয়ে স্ফীতকায় হয়ে উঠছে তৃণমূল। যা আদতে সুবিধাই করে দিচ্ছে বিজেপির। সেই কারণেই মমতার আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচন। মোদি ভালোই জানেন ওই নির্বাচনে তাঁর প্রধান প্রতিপক্ষ কংগ্রস, তৃণমূল নয়। তাই তৃণমূলকে তুষ্ট করে কংগ্রেসে ভাঙন ধরাতে পারলে সংসদে ফেরার পথ হবে মসৃণ। সেটাও মমতার আমন্ত্রণ গ্রহণ করার একটা বড় কারণ।
{link}
মোদির সঙ্গে বৈঠকের পরে মমতা যে খুব খুশি, তা বোঝা যায় তাঁর বক্তব্যেই। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে মমতা বলেন, রাজ্য এগোলে দেশও এগোবে। সেই জন্যই আগামী বছর এপ্রিলে পশ্চিমবঙ্গে যে বিশ্ব বাংবা বাণিজ্য সম্মেলন হবে, সেখানে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। করোনার কারণে বাণিজ্যের অবস্থা খারাপ। তাই কেন্দ্র-রাজ্য মিলে একটা সম্মেলন করলে ভালো হয়। আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তবে কি রাজ্যে সাপে নেউলে যুদ্ধ হলেও কেন্দ্রে আড়ালে আড়ালে মানিক-জোড় হয়ে উঠছে এই দুই রাজনৈতিক দল!
