তবে কি ফের ধর্ম অবলম্বন করেই ভোটযুদ্ধে নামতে চলেছে পদ্মের শিবির? ইঙ্গিত অনেকটা সেই দিকেই। ফের মন্দির তাস খেললেন বিজেপি নেতৃত্ব! রামমন্দিরের সাফল্যকে ক্যাশ করেই উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে নামছে বিজেপি। বুধবার এহেন ইঙ্গিতপূর্ন মন্তব্যই করলেন বিজেপি নেতা তথা উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী কেশবপ্রসাদ মৌর্য। তিনি বলেন, মথুরায় মন্দির নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে।
গোটা দেশে বিজেপির উত্থানের নেপথ্যে রাম মন্দির আন্দোলন। নয়ের দশকের শুরু থেকেই বিজেপি উঠেপড়ে লেগেছিল গোটা দেশে হিন্দুত্ববাদের হাওয়া তুলতে। সেই হওয়ায় ভর করেই দিল্লি দখলের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে তারা। তার ফলও মেলে। দিল্লির মসনদে বসার স্বপ্ন পূরণ হয় গেরুয়া নেতাদের। এদিকে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বাবরি মসজিদের জায়গায় রাম মন্দির তৈরির কাজ চলছে।
{link}
১৯৯৯ সালের ৬ই ডিসেম্বর করসেবকদের হাতে ধ্বংস হয় বাবরি মসজিদ। ওই ঘটনার ২৯ বছর পূর্তির আগে বিজেপি নেতার ‘মন্দির-বাণী’ নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ বই কি! এদিন বিজেপি নেতা তথা রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী মৌর্য টুইটে লেখেন, অযোধ্যা কাশীতে বিরাট মন্দির নির্মাণ চলছে। মথুরার জন্যও প্রস্তুত হচ্ছি আমরা।
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, মথুরায় অবস্থিত সপ্তদশ শতাব্দীর শাহি মসজিদ এলাকায় ছিল শ্রীকৃষ্ণের জন্মস্থান। সেখানে তাঁরা শ্রীকৃষ্ণের মন্দির বানানোর আবেদন জানিয়েছেন। অখিল ভারত হিন্দু মহাসভাও জানিয়ে, তারা সেখানে শ্রীকৃষ্ণের মূর্তি স্থাপন করবেন। হিন্দু সংগঠন নারায়ণী সেনাও মসজিদ সরানোর দাবিতে বিশ্রাম ঘাট এলাকা থেকে কৃষ্ণের জন্মস্থান পর্যন্ত মিছিল করার হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে। অশান্তির আশঙ্কায় সেখানে জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা।
{link}
অর্থাৎ ঘুরে ফিরে যোগীরাজ্যে ধর্মের উপর নির্ভর করেই ভোটযুদ্ধে পদার্পন করতে চলেছে বিজেপি। যে ধর্মভিত্তিক লড়াইয়ের জন্যেই আজ এতো সমালোচিত হয়ে এসেছে এই দলটি। ধর্মের রাজনীতি করে শেষবার জয় এসেছিল তাদের পক্ষেই, এইবারও তারই পুনরাবৃত্তি ঘটবে কি?
