মেঘালয় কংগ্রেসে বড়োসড়ো ভাঙন ধরিয়ে আজ উত্তর পূর্বের রাজ্যে উত্থান ঘটেছে তৃণমূল কংগ্রেসের। ১২ জন এমএলএ-কে নিয়ে ঘাসফুল শিবিরে যোগদান করেছেন মুকুল সাংমা। মেঘালয় কংগ্রেসে বিরোধী গোষ্ঠীর নেতাকে বসানো হয় প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির পদে। তার জেরেই মোহভঙ্গ হয় মেঘালয়ের দলবদলু কংগ্রেস নেতা মুকুল সাংমার। তার পরেই তৃণমূলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত। ওয়াকিমহলের মতে, মুকুলের দলবদলের নেপথ্যে কাজ করছে এই তত্ত্বই। ঘটনার জেরে উত্তর পূর্বের এই পাহাড়ি রাজ্যে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হল কংগ্রেস।
{link}
টানা আটবছর ছিলেন মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী। পূর্ব গারো পাহাড়ের প্রভাবশালী নেতা মুকুল কেন হঠাৎ কংগ্রেস ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন, তা নিয়েই জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। তখনই জানা গিয়েছে বিরোধী গোষ্ঠীকে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি। সূত্রের খবর, মুকুলের বিরোধী গোষ্ঠীর নেতা হিসেবে পরিচিত লোকসভার সাংসদ ভিনসেন্ট লালাকে মাস খানেক আগে মেঘালয় প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পদে বসান দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। এতেই খেপে যান মুকুল। দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াতে শুরু করেন। প্রস্তুতি শুরু করে দেন তৃণমূলে যোগ দেওয়ার। মাঝে একবার কলকাতায় এসে ইলেকশন স্পেশালিস্ট প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে দেখা করেছিলেন তিনি। তখনই রটে গিয়েছিল, কংগ্রেস ছেড়ে মুকুল ভিড়ছেন তৃণমূলে। যদিও প্রশান্তের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎকারকে সৌজন্য সাক্ষাৎ বলে বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছিলেন মুকুল। তবে সেটা যে নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎকার ছিল না, এই ঘটনাই তার প্রমাণ।
{link}
এদিন কংগ্রেস ছাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন মুকুল। তিনি বলেন, ২০১৮ সালে নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা না পেলেও সর্ব বৃহৎ দল হিসেবে আমরাই আত্মপ্রকাশ করি। কিন্তু তারপর কোন পদ্ধতিতে মেঘালয়ে সরকার গঠন হয়েছিল, তা আপনারা সকলেই জানেন। আমরা বিরোধী দলের দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করে গিয়েছি। কিন্তু বলতে বাধ্য হচ্ছি, আমরা সঠিকভাবে বিরোধী দলের নীতি পালন করতে পারিনি। দলীয় নীতি মেনে চলতে গিয়ে জনস্বার্থের সঙ্গে আপোশ করতে হয়েছে। তাই আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখন এই বড়োসড়ো ক্ষততে প্রলেপ লাগানো যে মেঘালয় কংগ্রেসের পক্ষে বেশ কঠিন, তা স্পষ্ট। এতে সোনায় সোহাগা হয়েছে বিজেপির, বিষয়টিকে নিয়ে কংগ্রেসকে কটাক্ষও করতে ছাড়েননি তারা।
.jpeg)
