একুশের নির্বাচনের পর থেকে বিজেপি থেকে বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ মুখ ফিরে গেছেন তৃণমুলে। এর মধ্যে রয়েছেন মুকুল রায় বাবুল সুপ্রিয় সহ বেশ কয়েকজন বিধায়ক। ফের কি ঘরে ভাঙন ধরতে চলেছে বঙ্গ বিজেপিতে বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র সব্যসাচী দত্তও কি বেরিয়ে আসছেন? প্রাক্তন টিএমসি বিধায়কের তৃণমূল কংগ্রেসের সম্ভাব্য 'ঘরবাপসি' নিয়ে জল্পনা চলছে। বিজেপিকে কি লেজে খেলাচ্ছেন সব্যসাচী দত্ত? মহালয়ার দিন এই প্রশ্নই ঘুরপাক খেল রাজনৈতিক মহলে। কারণ বিজেপিতে থেকে দলীয় নেতৃত্বকেই নিশানা করছেন তিনি। তৃণমূল ছাড়ার আগে তিনি এরকমই করেছিলেন বলে দাবি বিজেপি নেতাদের। তবে এমন চলতে থাকলে সব্যসাচী সম্পর্কে কঠোর অবস্থান নিতে পারেন বিজেপি নেতৃত্ব।
তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে মনান্তরের জেরে ২০১৭ সালে পুজোর ঠিক আগে জোড়াফুল শিবির ছাড়েন মুকুল রায়। মাস দুয়েক পরে দিল্লিতে গিয়ে তিনি হাতে তুলে নেন গেরুয়া ঝান্ডা। তার পরেই মুকুল জানিয়ে দেন বাংলা থেকে তৃণমূলকে উৎখাত করবেন তিনি। বর্ষীয়ান নেতা মুকুলকে দলে দায়িত্ব দেন বিজেপি নেতৃত্ব। এর পরেই তৃণমূল ভাঙানোর খেলায় নামেন মুকুল। মুকুলের হাত ধরে গেরুয়া খাতায় নাম লেখান অনেকেই। এঁদের মধ্যে ছিলেন বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র সব্যসাচী দত্তও।
{link}
এই সব্যসাচীই বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন বলে জোড়াফুল শিবিরের একটি সূত্রের খবর। তবে তার আগে তিনি বিজেপিকে লেজে খেলাচ্ছেন বলে অভিযোগ। উত্তর প্রদেশের লখিমপুরের ঘটনায় বিজেপির সদ্য প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষ সমর্থন করেছিলেন ১৪৪ ধারা জারিকে। তিনি বলেছিলেন, প্রত্যেক সরকারই এটা করে থাকে। এ ব্যাপারে দিলীপকে কটাক্ষ করে সব্যসাচী বলেন, কৃষকদের যেভাবে পিষে মারা হয়েছে, তা ইচ্ছাকৃত হোক বা অনিচ্ছাকৃত, তারপরেও যদি কেউ এভাবে কথা বলেন, তাহলে তাঁর অভিপ্রায় নিয়ে তিনি কিছু করতে পারবেন না। তিনি বলেন, এটা আন্দোলন দমিয়ে দেওয়ার কোনও পদ্ধতি হতে পারে না। কেননা এটা তো আর আফগানিস্তান নয়।
{link}
রাজ্যের চার কেন্দ্রের উপনির্বাচনে বিজেপির নির্বাচনী কমিটিতে নাম রয়েছে সব্যসাচীর। কিন্তু দলীয় নেতৃত্বকে নিশানা করায় তাঁর অভিপ্রায় নিয়েই উঠছে প্রশ্ন। তৃণমূলে থাকাকালীন সব্যসাচী লাগাতার দলনেত্রীকে আক্রমণ করেছেন বলে অভিযোগ। তার পরেও দীর্ঘদিন দল ছেড়েছিলেন না তিনি। পরে অবশ্য ছাড়েন। এখনও তেমনি করে গেরুয়া নেতৃত্বকে তিনি লেজে খেলাচ্ছেন বলে অভিযোগ বিজেপি নেতৃত্বের। দলে থেকে দলের বিরুধ্যে কথা বলা সব্যসাচী দত্তর নতুন কিছু নয়। তৃনমুলে থাকা কালিন তিনি তৃনমুলের ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধ্যে অনেক মন্তব্যই করেছিলেন পরে অবশ্য তিনি তৃনমুল ছেড়ে মুকুল রায়ের হাত ধরে যোগ দেন বিজেপিতে। কবে সব্যসাচী ফিরছেন তৃনমুলে এটাই দেখার।

