শেফিল্ড টাইমস ডিজিটাল ডেস্ক: গতকাল প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলনরত ছাত্রদের উপর লাঠিচার্জের পর মঙ্গলবারেও দিল্লিতে উত্তেজনা অব্যাহত। ছাত্র বিক্ষোভে নির্বিচারে লাঠিচার্জের প্রতিবাদে অবস্থান বিক্ষোভে বসে লোকসভার বিরোধী শিবির। প্রিয়াঙ্গা গান্ধী, রাহুল গান্ধী সহ উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেসের একাধিক শীর্ষনেতা। এছাড়াও, উপস্থিত ছিলেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। কিন্তু, সন্ধ্যাতেই তাঁদের সকলকে আটক করে বাসে তুলে নিয়ে গিয়েছে দিল্লি পুলিশ।
প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ লোককল্যাণ মার্গের মতো উচ্চ নিরাপত্তা বলয়ে অবস্থান-বিক্ষোভ না করার বার্তা দিয়েছিলেন। কিন্তু, তা উপেক্ষা করেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের কাছে রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খড়্গে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা সহ কংগ্রেস সাংসদেরা রাতভর ধর্নার প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে যোগ দেন অখিলেশ যাদব। কিন্তু, তাঁদের এই কর্মসূচি আটকে দিল পুলিশ। সন্ধ্যাতেই আটক করে নিয়ে যাওয়া হল।
দিল্লিতে ছাত্র-যুবদের মিছিলে লাঠি, কাঁদানে গ্যাস নিয়ে ‘পুলিশি হামলা’র প্রতিবাদে মঙ্গলবার মোদীর বাংলোর সামনে ধর্নায় বসার আগে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স -এ একটি পোস্টে লেখেন, ‘‘শিক্ষার্থীদের উপর হামলা মানে প্রতিটি ভারতীয় পরিবারের উপর হামলা। প্রধানমন্ত্রী মোদী যদি মনে করেন যে তিনি কোনও জবাব না-দিয়েই, কোনও পরিণতির মুখোমুখি না-হয়েই পার পেয়ে যাবেন! পারবেন না, এ বার তো একেবারেই না। আমি প্রত্যেক দেশপ্রেমিক ভারতীয়ের কাছে আবেদন জানাই—যিনি বিশ্বাস করেন যে আমাদের শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচার পাওয়া উচিত, প্রধানমন্ত্রী আবাসনের সামনে আমাদের ধর্নায় যোগ দিন। ভারতের শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বরকে উপেক্ষা করা যায় না।’’
এদিন কংগ্রেস সাংসদদের পাশাপাশি দুই কংগ্রেসশাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, কেরলের ভিডি সতীশন এবং কর্নাটকের ডিকে শিবকুমারও যোগ দিয়েছিলেন রাহুলদের ধর্না-বিক্ষোভে। গিয়েছিলেন শরদ পওয়ারের কন্যা তথা এনসিপি (এসপি) সাংসদ সুপ্রিয়া সুলেও। প্রধানমন্ত্রী মোদীর লোককল্যাণ মার্গের বাংলোর অদূরে ধর্না-বিক্ষোভ শুরু করার পরে তাঁদের সঙ্গে গিয়ে সাক্ষাৎ করেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহ। উচ্চ নিরাপত্তা বলয়ের অন্তর্গত ওই এলাকা থেকে ধর্না প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান তিনি। এর পরে ধর্নাস্থল থেকে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে সাক্ষাতের পরে আবার লোককল্যাণ মার্গে ফিরে যান জিতেন্দ্র। সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন। ধর্নার প্রত্যাহারের জন্য শাহের ‘আবেদন’-এর কথা জানান কংগ্রেস নেতৃত্বকে।
কিন্তু তাতেও ‘বরফ গলেনি’। সূত্রের খবর, রাহুলেরা চারটি দাবিতে রাতভর ধর্নায় বসার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার পাশাপাশি, পুলিশি অত্যাচারের দায় স্বীকার করে মোদী সরকারের ক্ষমাপ্রার্থনা, সংসদে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিবৃতি এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতি নিয়ে বাদল অধিবেশনে আলোচনার দাবি জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতৃত্ব। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেই দাবি মানার বার্তা দেয়নি মোদী সরকার।
