শেফিল্ড টাইমস ডিজিটাল ডেস্ক: এটা কিন্তু কল্পনার অতীত যে একমাসে চিনির দাম প্রায় ডবল। শুধু চিনি নয়, নিত্য প্রয়োজনীয় প্রায় সমস্ত রকম খাদ্য দ্রব্যের মূল্যই নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। কি রাজ্য, কি কেন্দ্র উভয় সরকারি 'পাথরের' মতো নীরব রয়েছে। মাঝে মাঝে শুধু 'ইথানল' শব্দটা ঘোরাফেরা করছিল। এবার প্রকৃত কারণ প্রকাশ্যে আনলেন কেন্দ্রীয় সরকার। ২০ দিনে প্রায় ২০ টাকা বেড়েছে চিনির দাম। দেশের বাজারে চিনির মহার্ঘ হওয়ার নেপথ্যে ইথানলের উৎপাদনের যোগসূত্র! এই দাবি নস্যাৎ করল কেন্দ্র। শুক্রবার এক বিবৃতিতে কেন্দ্র জানিয়েছে, ইথানল উৎপাদনের জন্য চিনি সরিয়ে নেওয়ার কারণে চিনির দাম বেড়েছে—এমনটা ঠিক নয়। ভোক্তা বিষয়ক, খাদ্য ও গণবণ্টন মন্ত্রক এই মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে বেশ কিছু কারণ উল্লেখ করেছে, প্রত্যাশার চেয়ে কম চিনি উৎপাদন, উৎসবের মরশুমকে কেন্দ্র করে চাহিদা বৃদ্ধি, আবহাওয়াজনিত কারণে ফসলের ক্ষতি, বিশ্ববাজারে সরবরাহ কমে যাওয়া এবং মজুত ও ফটকা কারবারের আশঙ্কাও রয়েছে। সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, খুচরা বাজারে চিনির দাম চড়চড়িয়ে বেড়েছে। ২০ জুলাই প্রতি কেজি চিনির গড় খুচরো বাজারে চিনির দাম ছিল ৪৮.১৮ টাকা, যা ২০ আগস্ট বেড়ে ৫৫.৭০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
সরকারের মতে, সরবরাহ ও চাহিদার প্রভাবেই এই মূল্যবৃদ্ধি। সরকার প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ফসলের ক্ষতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির সীমিত জোগানের বিষয়টিও উল্লেখ করেছে কেন্দ্রের বিবৃতিতে। একই সঙ্গে, সংশ্লিষ্ট শিল্পের একটি অংশের মধ্যে অতিরিক্ত মজুতের প্রবণতার কারনে দেশীয় বাজারে চিনি সরবরাহে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে। আসন্ন উৎসবের মরশুমে যাতে চিনির দাম হাতের বাইরে না চলে যায়, সেটা নিশ্চিত করতে সরকার মজুদদারি কড়া হাতে রুখতে চাইছে। কেন্দ্রের নয়া নির্দেশ, বড় বড় চিনি ব্যবসায়ী বা মজুতদাররা ১৫ দিনের বেশি চিনি গুদামে আটকে রাখতে পারবেন না। মোদি সরকারের নয়া নির্দেশিকা বলছে, যে সব ব্যবসায়ীরা মাসে ১০ মেট্রিক টনের বেশি চিনি বেচাকেনা করেন, তাঁদের প্রতি ১৫ দিনের মধ্যে নিজেদের গুদামে মজুত সব চিনি বাজারে ছাড়তে হবে। সেটা নিশ্চিত করতে ১৫ দিন অন্তর অন্তর অভিযান চালাবে সরকার। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই বিধিনিষেধ চালু হবে। সেটা চলবে ৩০ নভেম্বর অর্থাৎ উৎসবের মরশুম শেষ হওয়া পর্যন্ত।
