দেশব্যাপী করোনা আবহের কারণে এবছর দর্শক বিহীন দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে বেলুড় মঠে। সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ। এর পাশাপাশি দীর্ঘ ১৯ বছর পর ফের মূল মন্দিরে পুজো হচ্ছে দেবী দুর্গার। বাঙালির বাঁধ ভাঙা আবেগ আর উৎসবের উচ্ছ্বাসে দেবীপক্ষের সঙ্গে পুজো শুরু হয়ে গিয়েছে বহু আগেই ৷ দুর্গাপূজার সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং জাঁকজমকপূর্ণ দিন অষ্টমী । সকাল থেকেই মণ্ডপে মণ্ডপে অঞ্জলি দিতে মানুষের ভিড় ৷
মহাষ্টমীর সকালে যথাযোগ্য মর্যাদায় বেলুড় রামকৃষ্ণ মঠে কুমারী পুজো অনুষ্ঠিত হল। এদিন অষ্টমীর সকালে প্রথমে অষ্টমী বিহিত পুজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর হয় কুমারী পুজো।
কোভিড পরিস্থিতিতে বেলুড় মঠের কুমারী পুজোয় সাধারণ ভক্ত দর্শনার্থীদের প্রবেশাধিকার ছিল না।
স্বামী বিবেকানন্দ ১৯০১ সালে বেলুড় মঠে কুমারী পুজা শুরু করেছিলেন। সেই রীতি মেনেই বেলুড় মঠের সন্ন্যাসীরা মহাষ্টমীর দিন কুমারীকে দেবী হিসেবে উপাসনা করেন। শ্রীশ্রীঠাকুরের মতে, অল্পবয়সী মেয়েরা যখন কুমারী থাকে সেই বয়সে জগতের নেতিবাচক শক্তি থেকে তারা দুরে থাকে। তখনই তাদের মধ্যে মাতৃভাবনা প্রকাশ পায়। ১ থেকে ১৬ বছর বয়সী বালিকাকেই কুমারী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়ে থাকে। প্রতিমাকে জীবন্ত বিগ্রহরূপে পুজো করা হয়।
দেবী কুমারী, দেবী দুর্গার একটি রূপ। কুমারীকে শাড়ি পরিয়ে ফুল ও গয়নায় সাজিয়ে যে নিয়মে মা দুর্গাকে পুজো করা হয় ঠিক সেই মেনেই কুমারী পুজো করা হয়। অর্ঘ্য ও নৈবেদ্যই সমর্পিত হয় কুমারীর পায়ে, মন্ত্র পড়ে কুমারীর পুজো করা হয়। আরতি করা হয়। সন্ন্যাসী এবং ভক্তরা কুমারীকে দেবী জ্ঞানে ফুল দিয়ে অঞ্জলি দেন।
কুমারী পুজো ও বেলুড় মঠকে ঘিরে তাঁর গুরুত্ব আদি সময়কাল থেকে আজ অবধি সমস্ত মানুষের কাছে এক অনন্য অনুভূতির প্রকাশ পায় দেবী আনন্দময়ীর আরাধনার সঙ্গে সঙ্গে, যা ভাষায় প্রকাশ করা কার্যত কঠিন.......

