সৌভিক চোঙদার
এবার কি তাহলে মাস্ক পুজো?
বাজারে কেনাকাটার লাইন খুবই কম , শপিং মলে ভীড় হাতে গোনাগুনতি...।
তাহলে কি এবার পুজো শুধুই মাস্ক বাজারে সীমিত?
পাঁচ দিনে দশটা মাস্ক চাই , ভিন্ন রঙের সব মাস্ক , ষষ্ঠীতে বোধনে একরকম , সপ্তমীতে আরও এক , অষ্টমীতে অঞ্জলি শ্রেষ্ঠ আর নবমীতে আনন্দের ভুঁড়িভোজ মাস্ক ছাড়া কোথাও কোন স্থান নেই ।
করোনার প্রভাবে এ বছর শারদীয়া দুর্গোৎসব পালন করবে রাজ্যবাসী। অতি মারি করোনায় প্রাণ নিয়েছে বহু মানুষের। প্রতিদিন আক্রান্তের নতুন নতুন রেকর্ড ভাঙছে। পাশাপাশি মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে একই হারে। তবে এত কিছুর মধ্যেই উৎসবের মেজাজে মানুষ নতুন নতুন জামকাপড়, জুতো, সাজসজ্জার জিনিসপত্রও।
নিউ নর্মালের ছোঁয়া লাগতে চলেছে প্রতি পূজা মণ্ডপে ।অনেকে মনে করছেন দেবী আরাধনায় ফিরবে সব হারিয়ে যাওয়া দিনগুলি , দেবী করুণাময়ী সমস্ত ব্যাধি তাঁর শক্তিতেজে বিনাস করে রক্ষা করবেন এই বিশ্বকে। এই বছর প্রতি মানুষের কাছে মা যেন এক আশার আলো যা সমস্ত অশুভ শক্তির বিনাশ করে শুভ শক্তির আগমনে ভরিয়ে দেবেন এই বিশ্ব ।
আনন্দময়ী কন্যাকে গৃহে রেখে চাতক পাখির মতো অপেক্ষা করা আশার আলো যেন বলে প্রতি বছর তোর কানে বলি একটাই কথা, আর একটু থাকনা... কেন এত তাড়াতাড়ি কাটে এই পাঁচদিন, কেন এত তাড়াতাড়ি চলে যাস.... একটু কিছু সময় কি থাকতে নেই? এই বছরটা একটু বেশি থেকে যাস আমার জন্য নয়, সেই স্বজনহারা মায়ের কোলের জন্য, সেই না খেতে পাওয়া ছোট্ট খোকার জন্য, যার পেটে সাত মাস ঠিক করে দুবেলা ভাত জোটেনি.... সেই স্বামী হারা মেয়েটার মুখের দিকে চেয়ে যার জীবনের সব রং হারিয়ে ফিকে হয়ে গেছে, সেই ছোট্ট শিশুটির জন্য যে জানেই না দেবী কেন আসে, ঢাকিদের ঘরে প্রদীপ জ্বলে তোর অপেক্ষায়, কাশফুল তাঁর স্বাধীনতা মেলে ধরে পূর্ণিমার চাঁদে তোর আশায়, থাকনা একবার একটু বেশি..... মানুষ হাসতে ভুলে গেছে, তুই এলে আবার বাতাসে প্রেমের জোয়ার ভেসে উঠবে........ থাকিস কিছুদিন.. ||||
