শেফিল্ড টাইম্স ডিজিটাল ডেস্ক : নারীর স্বাধীনতার বিকাশ না ঘটলে কোনো দেশের উন্নতি নেই। সারা বিশ্ব জুড়েই সামন্ততান্ত্রিক সমাজে পুরুষেরা নারী স্বাধীনতাকে আটকে রেখেছিলো। পরে ধীরে ধীরে সেই প্রতিবান্ধকতা দূর করে আজ নারী শক্তির বিকাশ অনেকটাই হয়েছে, কিন্তু পূর্ণাঙ্গ স্বাধিকার নারী সমাজ এখনও পায় নি। সাড়া বিশ্বজুড়ে নারী শক্তির বিকাশের যে রূপ আজ আমরা দেখতে পাই তা কিন্তু একটা দীর্ঘ আন্দোলনের পথ ধরে এসেছে। আজ, ৮ মার্চ বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস (women's day)। বর্তমানে এই দিনটি নারী শক্তিকরণ, অধিকার ও লিঙ্গ সমতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয় এবং বিশ্বজুড়ে উৎসাহের সাথে পালিত হয়।
{link}
একটা ধারাবাহিক ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে আজ আমরা এসে উপস্থিত হয়েছি আন্তর্জাতিক নারী দিবসে। ১৯১১ সালে অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, জার্মানি ও সুইজারল্যান্ডে প্রথমবার পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস। তার আগে ১৯০৮ সালে নিউ ইয়র্কে ১৫,০০০ নারী ভালো বেতন, কম কাজের সময় ও ভোটাধিকারের দাবিতে মিছিল করেছিলেন। এর প্রেক্ষিতে আমেরিকার সোশ্যালিস্ট পার্টি ১৯০৯ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারি প্রথম জাতীয় নারী দিবস ঘোষণা করে। এর পরেই ১৯১০ সালে জার্মানির সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিন কোপেনহেগেনের নারী সম্মেলনে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রস্তাব রাখেন।
{link}
এর পরেই শুরু হয় বিচ্ছন্নভাবে নারী দিবস পালন। ১৯১১ সালে ইউরোপের চারটি দেশে প্রথমবার আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয়, যাতে ১০ লক্ষেরও বেশি মানুষ অংশ নেয়। ১৯১৭ সালে রাশিয়ায় নারীরা ২৩শে ফেব্রুয়ারি খাদ্য সংকট ও প্রথম বিশ্বযুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিল। এই আন্দোলন এতটাই প্রভাবশালী ছিল যে জার নিকোলাস দ্বিতীয়কে ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছিল এবং রাশিয়ার নারীরা ভোটাধিকার পেয়েছিল। ১৯১৭ সালে রাশিয়ার নারী আন্দোলনের সময় সেখানে ২৩শে ফেব্রুয়ারি ছিল, কিন্তু গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ৮ই মার্চ। তাই ৮ই মার্চ নারী দিবস পালন শুরু হয়। ১৯৭৫ সালে রাষ্ট্রসঙ্ঘ আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ঘোষণা করে এবং বিশ্বব্যাপী পালনের সূচনা হয়।
{ads}