বিনোদন জগতের মানুষদের সঙ্গে বিতর্ক বিষয়টি প্রায় সমান্তরাল। সেই কারণেই, নিজেদের সামাজিক ছবি স্বচ্ছ রাখতে সর্বদা বাড়তি গুরুত্ব প্রদান করে থাকেন অভিনেতা অভিনেত্রীরা। কিন্তু সকলের জীবনেই একটি করে কালো অধ্যায় আসে। একইভাবে আরিয়ান খানের কারণে বছর কয়েক আগে বড়সড় সমস্যায় পড়েছিলেন বলিউডের বাদশাহ। শাহরুখ খানের জীবনে সে ছিল একটা অভিশপ্ত অধ্যায়। যদিও সেই দুঃসময় অবশ্য কাটিয়ে উঠেছে তিনি। একুশ সালের নভেম্বর মাসে প্রমোদতরীর মাদককাণ্ডে নাম জড়ানোয় এক মাস প্রাসাদোপম মন্নত ছেড়ে আরিয়ান খানকে রাত কাটাতে হয়েছিল জেলে। ছেলে জেলে থাকার বিষয়টি কোনওভাবেই বাবার কাছে সু-সময় নয়। ধাক্কা খেয়েছিল শাহরুখের স্বচ্ছ ভাবমূর্তিও।
{link}
জীবনের সেই ‘অভিশপ্ত অধ্যায়’ কাটিয়ে ‘ব্যাডস অফ বলিউড’-এর সুবাদে পরিচালক হিসেবে নাম লিখিয়েছেন শাহরুখ পুত্র। তাঁর কাজ যথেষ্ট প্রশংসাও কুড়িয়েছে নাগরিক মহলে। জীবনের কালো অধ্যায়ের ধাক্কা কাটিয়ে উঠলেও, সংশ্লিষ্ট মামলা কিন্তু মুম্বই উচ্চ আদালতে এখনও বহাল। বছর পাঁচেক আগে আরিয়ানের মাদক মামলার দায়িত্বে থাকা তৎকালীন এনসিবি অফিসার সমীর ওয়াংখেড়ের বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপের মামলা করেছিল সিবিআই। ফলে, মাথায় হাত পড়েছিল খান পরিবারের। শাহরুখের বিরুদ্ধে উঠেছিল ভয়াবহ অভিযোগ। অভিযোগ ওঠে, সেসময়ে বাদশাপুত্রের মামলা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য তিনি নাকি ২৫ কোটি টাকা ঘুষ নিয়েছিলেন শাহরুখ খানের থেকে। আধিকারিককে মোটা টাকা ঘুষ দিয়েছিলেন বাদশাহ। খবর প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। এবার সংশ্লিষ্ট মামলার শুনানিতেই স্বপক্ষে যুক্তি খাড়া করলেন সমীর।
{link}
একটি সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, সোমবার ২৩ মার্চ মুম্বই হাই কোর্টে সমীর ওয়াংখেড়ে জানান, তিনি কস্মিনকালেও শাহরুখ খানের কাছ থেকে কোনও টাকা নেননি। হাত পেতে ঘুষ নেওয়া তো দূরঅস্ত। স্পষ্টভাবেই এই গুরুতর অভিযোগ অস্বীকার করছেন তিনি। সমীরের আইনজীবী আদালতের কাছে জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই এনসিবির দায়ের করা মামলা খারিজ করার আবেদন জানানো হয়েছে। কারণ প্রাক্তন নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো আধিকারিকের বিরুদ্ধে সিবিআইয়ের কাছে যথাযথ প্রমাণ নেই। পাশাপাশি আদালতে সমীর এও জানিয়েছেন যে, এনসিবির কাছে আসা এক তথ্যের ভিত্তিতেসেই রাতে ‘কর্ডেলিয়া’ ক্রুজে তল্লাশি চালানো হয়েছিল। এবং সেসময়ে আইন মেনেই আরিয়ান-সহ কয়েক জনকে গ্রেফতার করা হয়। ফলে, স্পষ্টভাবেই এই অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করছেন তিনি। এই মুহূর্তে আপাতত স্বস্তি পেয়েছে খান পরিবারও।
{ads}