চুলের সমস্যা শুধু মাত্র বহিরাগত পুষ্টির অভাবেই হয়না এর আরও একটা বড় দিক হচ্ছে অনিদ্রা বা ঘুমের বঞ্চনা। অনিদ্রা কেবল মাত্র স্বাস্থ্যকেই প্রভাবিত করে না, চুলের ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলে। চুল হয়ে ওঠে পাতলা, চুল পড়ার পরিমাণও বৃদ্ধি পায়। চুলের ফলিকগুলিও দুর্বল হয়ে পড়ে। মানসিক সঙ্কটের বর্ধিত মাত্রা, চুলের ক্ষতি বা অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেসিয়ার মুল কারন হলো এই অনিদ্রা। একটি মানুষের দিনে কমপক্ষে ৭-৮ ঘন্টা শান্তিতে ঘুমানো দরকার। এই ঘুম আপনার শারীরবৃত্তীয় সিস্টেমকে স্ট্রেস থেকে পুনরুদ্ধারে সাহায্য করে। আমাদের দেহ সার্কেডিয়ান চক্র বা ঘুমের মধ্যে দিয়ে স্টেম সেলগুলিকে নিয়ন্ত্রতিত করে, সাথে চুলের ফলিকগুলিও বৃদ্ধি পায়। খারাপ ঘুম বা অপর্যাপ্ত ঘুম এই সার্কেডিয়ান চক্রকে নষ্ট করে ফেলে তাই কর্টিসল স্তরও বেড়ে ওঠে এবং স্ট্রেস লেভেলও বেড়ে ওঠে। এর ফলস্বরুপ চুলের মারাত্মক ক্ষতি দেখতে পাওয়া যায়। আমেরিকান জার্নাল অফ প্যাথলজিতে প্রকাশিত একটি গবেষণাতে স্ট্রেসের স্তর এবং চুলের বৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরেছে গবেষকরা। অতিরিক্ত স্ট্রেস লেভেলের সাথে সম্পর্কিত নিউরোহরমোনস, নিউরোট্রান্সমিটার এবং সাইটোকাইনগুলির মুক্তি চুলের বৃদ্ধির চক্রকে প্রভাবিত করে। সুতরাং, ঘুমের রুটিন স্ট্রেস পরিচালনা করতে এবং চুলের অকাল বর্ষণ হ্রাস করতে নিয়মিত দরকার ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমের। এরজন্য পরিবর্তন করতে হবে রোজকার লাইফস্টাইল, সঠিক ডায়েট এবং নিয়মিত ঘুম। কিন্তু আমাদের এখনের ব্যাস্ততার জীবনে ব্যাহত হচ্ছে আমাদের ঘুম, অনেক কাজের ও রোজগেরে মানুষ দিনে ঠিক করে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টাও ঘুমোতে পারে না। শুধু চুল নয় এর ফলে স্বাস্থ্যেরও ক্ষতি হচ্ছে মারাত্মক। সঠিক ঘুম ও স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজন একটি সঠিক রুটিন আর কতগুলি ছোট্ট জিনিস রাখতে হবে মাথায়। সেগুলি হল সুষম আহার, সঠিক সময়ে খাদ্য গ্রহন, রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে ভারী বা পেট ভর্তি খাবার না খাওয়া, ঘুমানোর আগে অ্যালকোহল গ্রহন বর্জিত করা এছাড়াও ঘুমোনের সময় ভালো ঘুম হওয়ার জন্য আই প্যাড বা আই মাস্ক ব্যাবহার করতে পারেন। দৈনন্দিন জীবনের স্ট্রেস মুক্ত করতে হবে, মনকে প্রশান্তি ও শান্ত করতে হবে, দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে শ্বাস প্রশ্বাসের ব্যায়াম, যোগব্যায়াম করতে হবে।একটি সঠিক রুটিন মেনে চলতে হবে।
সঠিক জীবন যাত্রা ও ভালো ঘুমের মান আপনার চুলের স্বাস্থ্য উন্নত করে। শুধু চুল বললে ভুল হবে একটি ভালো রুটিন চুল, স্বাস্থ্য ও মন, এই তিনকেই ভালো রাখতে সহায়তা করে। সারাদিনের কর্ম ক্ষেত্রেও ভালো মনোযোগ দিতে পারবেন আপনি। এবার যদি কেউ গুরুতরভাবে চুলের ক্ষতির সম্মুখীন হয় সে ক্ষেত্রে ডাক্তারি পরামর্শ অবশ্যই দরকার।
{ads}