‘চা’ খেতে আমরা কে না ভালোবাসি। জলের পর পানীয় হিসেবে যেটা আমরা সবার প্রথমে গ্রহন করতে ভালোবাসি সেটাই হচ্ছে ‘চা’। চা আমাদের ক্লান্তি দূর করে, মস্তিষ্ক সচল রাখে, আমাদের এনার্জি বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়াও চা এর আরও অনেক উপকারিতা আছে। পৃথিবীতে বিভিন্ন ধরনের চা আছে, কেউ কেউ দুধ চা খেতে ভালোবাসেন আবার কেউ কেউ ব্ল্যাক বা গ্রিন টি খেতে ভালোবাসে। আমরা বাঙালিরা বেশিরভাগ দুধ চা খেতে একটু বেশিই পছন্দ করি। কিন্তু আপনি হয়তো জানেন না যে, এমন অনেক ধরনের চা আছে যে গুলো ঘরে থাকা জিনিস দিয়েও তৈরি করা যায়। খুব সাধারণ জিনিস দিয়ে বানানো এই চাগুলো স্বাস্থ্যের পক্ষে খুবই উপকারি। আসুন জেনে নি এমনি এক চায়ের কথা, যার অনেক ভালো গুন আছে। কমলালেবুর খোসা যা আমরা সাধারণত ফেলে দি, তাই দিয়ে তৈরি এই চা খেতেও সুস্বাদু এবং উপকারি। এতে এমন অনেক পুষ্টিতে পূর্ণ যেটা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই দরকারি, এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়াতে সাহায্য করে।
অত্যন্ত সহজে ঘরে বসে এই চা তৈরি করা যায়। সময় সাপেক্ষ ও ব্যায় বাহুল্য এই চা বানাতে কমলালেবুর খোসা, লবঙ্গ, ছোটো এলাচ আর গুড় প্রয়োজন। প্রথমে একটি প্যানে জল নিয়ে মাঝারি আঁচে বসাতে হবে, এবার তাতে ছোটো ছোটো করে কাটা কমলালেবুর খোসা গুলোকে দিতে হবে সাথে লবঙ্গ ২-৩টে, ১-২ টো ছোটো এলাচ দিয়ে ভালো করে ফোটাতে হবে ২-৩ মিনিট ধরে। তারপরে গ্যাস বন্ধ করে একটি কাপে ভালো করে ছেঁকে নিয়ে তাতে আধ চামচ গুড় মেশাতে হবে। তাহলেই তৈরি হয়ে যাবে কমলালেবুর চা।
কমলালেবুর মতোই এর খোসাতে রয়েছে অনেক পুষ্টি। ফাইবার, ভিটামিন সি এবং পলিফেনলের মতো বেশ কয়েকটি পুষ্টিতে এটি ভরপুর। এছাড়াও এতে রয়েছে প্রোভিটামিন-এ, ফোলেট, রাইবোফ্ল্যাভিন, থায়ামিন, ভিটামিন বি৬ এবং ক্যালসিয়াম, যা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, এবং অনেক দুরারোগ্য রোগের ওষুধ হিসাবে কাজ করে। কমলালেবুর খোসাতে লিমোনিন নামক একটি যৌগ পাওয়া যায়, যা ৯৭ শতাংশ এসেনশিয়াল অয়েল পুর্ণ। এটি প্রাকৃতিক ভাবে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি এবং অ্যান্টি-ক্যান্সার বৈশিষ্ট দ্বারা সমৃদ্ধ। এটি ডায়েটেও আপনি যুক্ত করতে পারেন। পেটের জ্বালা বা ফোলাভাব, ত্বকের ক্যান্সারের মতো সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
