শীত শেষে এবার আসতে আসতে বাড়তে চলেছে তাপমাত্রা। ঘাম, ট্যান, ব্রণ, র্যাশ ইত্যাদি নানান অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয় আমাদের সবাইকে। পার্লারে গিয়ে ট্রিটমেন্ট করানোর সময় সবসময়ে হাতে থাকেনা। কিন্তু উজ্জ্বল, সতেজ ও গ্লোয়িং ত্বক কে না পেতে চায়। ঘরে বসেই এবার করে নিন ফেশিয়াল। পেয়ে যান সম্পূর্ণ পার্লারের মতো উজ্জ্বল ও সতেজ ত্বক। খুব অল্প সময়ে ও অল্প খরচায় ঘরে বসে নিজে নিজে করে ফেলুন ফেশিয়াল। আসুন দেখে নেওয়া যাক কি কি উপকরন লাগবে এবং কিভাবে করতে হবে এই ঘরোয়া ফেশিয়াল।
প্রথমেই বলি এটি তিনটি ধাপে করতে হবে। প্রথম পদক্ষেপে আমদের নিতে হবে ভেপার। মুখ ভালো করে ফেশ ওয়াশ দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে ভেপার নেওয়ার আগে। শুধু ভেপার নয়, নিম পাউডার বা নিমপাতা জলে মিশিয়ে ভেপারটি নিলে সবথেকে ভালো হয়। এর জন্য আপনি বাজার থেকে নিম পাউডার কিনে আনতে পারেন, বেশি দাম নয় অথবা গাছের টাটকা নিম পাতা ধুয়ে পরিষ্কার করেও ব্যাবহার করতে পারেন। একটি বড় পাত্রে জল নিয়ে তার সাথে নিম পাউডার বা নিম পাতা দিয়ে বেশ খানিকক্ষণ ফোটাতে হবে, ফোটার সময় যে বাষ্পটা বেরোবে সেটি ভেপার হিসাবে নিতে হবে। কমপক্ষে ১০ মিনিট ধরে নিতেই হবে। ওই যে নিম জলটা সেটি ফেলে দিলে চলবেনা, ঠান্ডা করে ছেঁকে নিয়ে ফ্রিজের আইসপটে ঢেলে জমে যাওয়ার জন্য রেখে দিতে হবে। এরপর আমাদের প্রয়োজন মুলতানি মাটি, চারকোল পাউডার বা চারকোল ফেশ প্যাক, ও অ্যালোভেরা জেল। অ্যালোভেরা জেল আপনি কিনেও ব্যাবহার করতে পারেন আবার গাছেরও সরাসরি ব্যাবহার করতে পারেন। প্রথমে আপনাকে একটি কাচের পাত্রে মুলতানি মাটি বা মুলতানি মাটির ফেশ প্যাক যেকোনো একটা নিতে হবে, তারসাথে চারকোল পাউডার বা ফেশপ্যাক ও অ্যালোভেরা জেল নিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। এরপর ব্রাশ বা হাতে করে গোটা মুখে ভালোভাবে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট রাখতে হবে, তারপর হালকা গরম জলে ধুয়ে ফেলতে হবে। এরপর আপনি যে আইস পটে নিমপাতার জল জমে যাওয়ার জন্য দিয়েছিলেন ওই আইস কিউবগুলো দিয়ে মুখে ভালো করে ম্যাসাজ করতে হবে। তারপর আপনার ত্বক অনুযায়ী যেকোনো ময়সচারাইজার ক্রীম লাগাতে হবে।
এই হল সম্পূর্ণ পদ্ধতি। এর কোন আলাদা প্রতিক্রিয়া নেই। কোন রকম জ্বালা করা বা র্যাশ বেরোনোর মতো কিছু হয়না। প্রথমে ভেপার নেওয়ার ফলে আমদের ত্বকে যে মৃত কোশগুলি থাকে সেগুলি দূর হয় ফলে সালোকসংশ্লেষ ভালো হয়, যার ফলে পরবর্তী ধাপে ফেশ প্যাকটি খুব ভালো ভাবে কাজে দেয়। ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে। যদি কারো মুখে ট্যান বা কালো ছোট ছোট দাগ থাকে সেই ক্ষেত্রেও এই ট্রিটমেন্টটি খুব উপকারি। এটি অন্তত সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার করা উচিত।
