সকাল বেলা তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে ছুটে যাওয়া অঞ্জলি দিতে। অঞ্জলি দেওয়ার পর আগের ঠিক হওয়া সময় মতোই ঠিক ওই রাস্তার তিন মাথার মোড়ে দশ মিনিট আগে থেকে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা, আর বার বার চুল ঠিক করা এবং তার সাথে সাথে হাতঘড়ির দিকে নিজে থেকে চলে যাওয়া চোখ। তিব্র বেগে লাফাতে থাকা হৃৎপিণ্ডও বেলাগাম রূপ ধারন করেছে। এক কথায় একেই বলে ‘অপেক্ষা’, যে অপেক্ষা সরস্বতী পুজোর দিন প্রতিটা বাঙালি ছেলে নিজের জীবনে বেশ কয়েকবার করে থাকে। স্কুল লাইফের কয়েকটা স্মৃতি যা আমাদের মনে আবছা হয়ে হলেও লেগে থাকে, তার মধ্যে এহেন এক অপেক্ষার স্মৃতি থাকবেই থাকবে। স্কুললাইফের প্রেম সরস্বতী পূজোর দিনে এইরূও অপেক্ষা ছাড়া এককথায় অসম্পূর্ন।
কিন্তু এই অপেক্ষা যতটাই দীর্ঘ হোক না কেন, যার জন্য সেই অপেক্ষা যখন সে শাড়ীটা ঠিকভাবে সামলাতে না পেরে শাড়ির কুঁচিটা ঠিক করতে করে সামনে এসে দাঁড়ায় সেই মুহুর্তে যে কোন বাঙালি ছেলের কাব্য পৃথিবীর সব তাবড় তাবড় কবিদের সাথে লড়াইয়ে অনায়াসে নেমে যেতে পারে। ইংরাজি ভ্যালেনটাইন্স ডে-র কিছু আগে বা পরে সাধারনত বাঙালির ঘরে আসেন দেবী সরস্বতী। প্রেমদিবস হিসাবে ভ্যালেনটাইন্স ডে ও পালন করা হয় বাংলায়। কিন্তু সরস্বতী পুজোর দিনে বাংলার যুবক যুবতিদের মধ্যে ঠিক যে আবেগ লুকিয়ে থাকে তার খুব কমই চোখে পড়ে ১৪ই ফেব্রুয়ারি তে। তাই সরস্বতী পুজো কে যদি বাংলার “বাঙালির ভ্যালেনটাইন্স ডে” হিসাবে উল্লেখ করা হয়, তবে তা খুব ভুল কিছু নয়।
এপ্রসঙ্গে আরও একটি বড়ো ব্যাপার হল, স্কুল লাইফের পরে হয়ত বয়স বাড়ার সাথে সাথে পাঁচ বছর আগের ছেলেটা আর অপেক্ষা করেনা সেই তিন মাথার মোড়টাতে। রাস্তাটা কিন্তু একই থাকে, একই থাকে পরিস্থিতিও। খালি পাল্টে যায় চরিত্রগুলি। দু-বছর আগে যে ছেলেটা যার জন্য অপেক্ষা করছিল তার পরের বছর তার যায়গায় এসে অন্য কারুর জন্য অপেক্ষারত অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকে অন্য একটি ছেলে। এবং এই চিত্রে চরিত্র পাল্টালেও চিত্রটা কিন্তু একই থাকে, একই থাকে গল্পগুলোও। আর এই একই ঘটনা ঘটে আসছে প্রতিনিয়ত বছরের পর বছর ধরে এবং তা ভবিষ্যতেও ঘটে চলবে। চরিত্র পাল্টালেও, অপেক্ষা কিন্তু একইরকম থাকে…..
.jpeg)
