রাহুলকে শুধু শিল্পী বললে কম বলা হবে। রাহুল ছিলেন চিন্তাশীল শিল্পী। তার সমস্ত বইগুলোর মধ্যেই ধরা আছে তার সূক্ষ্ম চিন্তা ভাবনা। তিনি কখনো জলে গা ভাসান নি, অথচ জলেই তার শেষ পরিণতি। স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে মন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন - ওর মধ্যে বরাবরই একটা রাগী, একটা ব্যতিক্রমী এবং অভিমানী-- এই মিশ্র সত্ত্বা কাজ করত। এবং পরে আমি বুঝতে পেরেছি, ও বাইরে যেটা হয়তো রাগী বলে দেখাত, আসলে তা নয়। ও নরম স্বভাবের ছেলে। তো শেষ দিনেও অনেক গল্প হল। ওর জীবন যাপন নিয়ে কথা হল। বলল এখন একদম কাজের মধ্যে আছি। এটাও কথা হল, যে সামনে একটা সিরিয়ালের শ্যুট আছে, বাইরে যাব। হয়তো এই সিরিয়ালটাই সেই সিরিয়াল।
তিনি আরো বলেন,রাহুলের এই চলে যাওয়া আমার ব্যক্তিগত মিস করার কথা নয়। এটা বাংলা থিয়েটার জগতের অপূরণীয় ক্ষতি। ব্যক্তিগত শোক তো নিশ্চয় মানুষের হয়। সেটা স্বাভাবিক ভাবে আমারও হয়েছে। কিন্তু ও তো কেবল একজন ব্যক্তি ছিল না। ও একজন যথার্থ অর্থে নট ছিল, অভিনেতা ছিল। ও একজন চিন্তাশীল অভিনেতা। চিন্তাহীন অভিনেতা ও নয়। যার ফলে এটা একা সার্বিক ক্ষতির জায়গা। ওর রাজনৈতিক মত হয়তো আমার থেকে আলাদা ছিল, কিন্তু সেটা আমাদের কমিউনিকেশনে কখনও বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। আমি শেষ যেদিন ওর পডকাস্টে গেলাম, ওর মায়ের সঙ্গেও আলাপ হল আমার। আমি এখনও ভাবতেই পারছি না, এটা কী করে হতে পারে। পুরো বিষয়টাই এখনও আমার কাছে শক বা ট্রমা। আমি যে কাটিয়ে উঠতে পেরেছি এটা, তা নয়। এটা আমার ব্যক্তিগত শোকের চেয়েও বড় কথা হচ্ছে, বাংলা সিনেমা ও থিয়েটার একজন চিন্তাশীল নট ও অভিনেতাকে হারাল।

