শেফিল্ড টাইমস ডিজিটাল ডেস্ক: ২০ বছর পরে বাংলাদেশের বিদ্রোহী লেখিকা তসলিমা নাসরিন আবার কলকাতায়। আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে তিনি বলেন, বাংলা ভাষা থেকে আমি কখনও নির্বাসিত হইনি। নির্বাসনে বাংলা ভাষাই ছিল আমার দেশ। কিন্তু বাংলা ভাষায় লিখে যাওয়া আর বাংলার রাস্তায় মানুষের মুখে বাংলা শোনা এক নয়। মনে পড়েছে আমার কলকাতার বাড়ি, বইমেলা, কলেজ স্ট্রিট, রবীন্দ্রসদন, ময়দানের শীতের রোদ, বন্ধুদের আড্ডা, পাঠকদের ভালোবাসা— সব কিছু। সবচেয়ে বেশি মনে পড়েছে সেই কলকাতাকে, যেখানে একসময় আমার একটি ঠিকানা ছিল, যেখানে নিজেকে অতিথি মনে হত না। উনিশ বছর আগে এক রাতের মধ্যে শুধু একটি শহর নয়, আমার সেই আপন ঠিকানাটিও হারিয়েছিলাম। কলকাতা আমার হারানো উনিশ বছর ফিরিয়ে দিতে পারবে না, আমি সেই অসম্ভব প্রত্যাশা নিয়ে আসিনি।
আমি চাই কলকাতা তার মুক্তচিন্তা, সহিষ্ণুতা এবং প্রতিবাদী সাহসকে রক্ষা করুক। কোনও ধর্মীয় গোষ্ঠীর হুমকির কারণে আর যেন কোনও লেখককে শহর ছাড়তে না হয়। আমি এখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের দাবি নিয়ে আসিনি। কিন্তু অতিথি হিসেবেও ফিরতে চাই না— বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির ঘরের মানুষ হিসেবেই স্বীকৃতি চাই। ঘরের মানুষ মানেই একই বাড়িতে বাস করা নয়; ভালোবাসা ও আত্মীয়তার অধিকার পাওয়া। বন্ধুর তালিকা দীর্ঘ হতে পারে, কিন্তু বিপদের দিনে প্রকাশ্যে পাশে দাঁড়ানো মানুষের তালিকা প্রায়ই খুব ছোট হয়ে যায়। অনেকে ব্যক্তিগতভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন, ভালোবাসা জানিয়েছেন; কিন্তু প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সাহস দেখাননি। আমি প্রত্যেকের কাছে তাঁদের জীবন বিপন্ন করার দাবি করিনি। তবে লেখক, শিল্পী ও বুদ্ধিজীবীরা সম্মিলিতভাবে প্রতিবাদ করলে ইতিহাস হয়তো অন্য রকম হতে পারত। তিনি বলেন, কলকাতার রোদ্দুর যে তিনি বড়ো ভালোবাসেন।
