"নেতারা দল ছাড়লেও কর্মীরা ছাড়েননি"- এই কথাই আজকাল শোনা যায় অধিকাংশ তৃণমূল নেতার মুখে। তবে কি সেই কথাই সত্যি? এককথায় যাকে বলে জনজোয়ার, সেই জনজোয়ারের মধ্যে দিয়েই আজ হাওড়ায় পদযাত্রা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাস্তার মোড়ে মোড়ে একাধিক মানুষ সার দিয়ে দাঁড়িয়ে, ইচ্ছে একটাই দিদিকে দেখা। একুশের নির্বাচনের পূর্বে এহেন বিপুল জনসমাবেশের মধ্যেই কি তবে জয়ের আশা খুঁজে পেতে চলেছে তৃণমূল? আজ মুখ্যমন্ত্রীর এই বিরাট পদযাত্রায় তিনি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মধ্য হাওড়া তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী অরূপ রায় এবং শিবপুর কেন্দ্রের ঘাসফুলের প্রার্থী মনোজ তিওয়ারি।
{link}
একটা বিষয়ের কথা প্রথমেই হাওড়া সম্পর্কে তৃণমূল কংগ্রেসের কথা মাথায় এলেই যে সমস্ত নেতাদের কথা মাথায় আসে আজ তারা অনেকেই ঘাসফুলে বর্তমান নেই। কিন্তু সেই দিক থেকে ভাঙন ধরার পর থেকেই তৃণমূলের বর্তমান নেতারা যে কথা বলছিলেন, যে তৃণমূলের নেতারা চলে গেলেও কর্মীরা দলেই আছেন। আর কর্মীতেই বর্তমান দলের শক্তি আগের মতোই আছে বলেই বিশ্বাস তাদেরও। এই মুহুর্তে আজকের মিছিলের ছবিও কিন্তু অনেকটা সেই কথাই বর্ননা করে গেল। দিদিকে ঘিরে কর্মীদের মধ্যে আজও যে একই আবেগ ও উত্তেজনা বর্তমান রয়েছে সেই কথা কিন্তু স্পষ্ট। আশি থেকে আট সকল বয়সের মানুষ আজ তার সমর্থনে এসে দাঁড়িয়েছিলেন রাস্তার ধারে। এই আবেগ এবং উদ্দীপনাই জয়ের চাবিকাঠি তুলে দেবে কি আরও একবার জোড়া ফুলের হাতে? প্রশ্নের উত্তর জানতে গেলে এখনও বেশ কিছুটা অপেক্ষা। আবার অপরদিকে বিজেপির প্রতিটা মিছিলেও কার্যত জনজোয়ারের গেরুয়া ঝড় চোখে পড়ছে বাংলার বুকে। যোগী আদিত্যনাথ থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী সহ অমিত শাহ সকলেই ঘন ঘন আসছেন বাংলায়। গেরুয়া শিবিরেও বড়ছে সমর্থক সহ কর্মী সংখ্যা এবং তার সাথে বাড়ছে রাজ্য বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি। যার ফলে স্বাভাবিক ভাবেই একুশের নির্বাচনের পূর্বে কোন পক্ষ এগিয়ে তা বলা বর্তমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে কার্যত হাত দিয়ে পাথর ভাঙার মতো। সব উত্তর পেতে অপেক্ষা সেই ২রা মে, সেই দিনই জানা যাবে কার মুখে বজায় থাকবে জয়ের হাঁসি।
.jpeg)
