বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের শ্রেষ্ঠ পার্বন দুর্গোৎসব অনেকটাই জৌলুস হীন। আবেগ উন্মাদনা কিংবা উচ্ছাসের বড় অভাব। সবটাই চলে গিয়েছে করোনার গ্রাসে। কোথাও কোথাও থিমের বালাই নেই। আলোক রশ্মির কারসাজি নেই। যে কারণে পুজোকে ঘিরে চরম ব্যাস্ততার ছবিটা দেখা যাচ্ছে না মণ্ডপে মণ্ডপে।সুরক্ষাবিধির কারণে অনেক বড়ো পুজো কমিটিগুলি এই বছর খুবই সাধারণ পুজো করছেন, তাঁদের কাছে ভক্তদের সুরক্ষাই প্রথম এবং অন্তিম লক্ষ্যে. আলোর গেটের জাঁকজমক প্রতি বছরে যে পুজো কমিটিগুলি শোরগোল ফেলে দিতো তারা গুরুত্ব দিচ্ছেন স্যানিটাইজার গেটে, দেওয়া হবে মাস্ক মাইকে ঢাকের বাদ্যি বা পুজোর গানের থেকে বাজবে করোনা সতর্কতা ।
সমস্ত রকম সতর্ক বিধি মেনে অন্তিম পথে এসে হাইকোর্টের রায়ে এখন আটকে বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপুজো। মণ্ডপে মণ্ডপে এখন প্রায় শেষ প্রস্তুতি পর্ব। কোনও জায়গায় তো আবার ভার্চুয়ালি উদ্বোধনও হয়ে গেছে। তবুও হাইকোর্টের করা নির্দেশিকাকে একেবারে অগ্রাহ্য করতে পারছেন না অনেকেই। প্রত্যেক পুজো কমিটিরই এখন একটায় দুশ্চিন্তা মুখ্যমন্ত্রী হাইকোর্টের এই রায়কে সম্মতি দেন কিনা।
হাইকোর্টের রায়ের পরই কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানান চেতলা অগ্রণীর অভিনব সিদ্ধান্তের বিষয়ে। এবছর তারা 'হেঁটে নয় নেটে' প্রতিমা ও মণ্ডপ দর্শনের ব্যবস্থা করেছেন।
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মেয়র জানান, 'করোনার কারণেই এবছর চেতলা অগ্রণী এই অভিনব থিম বেছে নিয়েছে। এমনকি ঠাকুরের ভোগও বাড়ি বাড়ি পৌঁছে যাবে। যাতে মানুষ ঘরে বসেই ভাইরাস মুক্ত থেকে দুর্গাপুজোর আনন্দ উপভোগ করতে পারে, সেই কাজেই এবছর ব্রতী চেতলা অগ্রণী , পুজো ওয়েবসাইটে দেখা যাবে '।
হাইকোর্টের এই রায়ে ক্ষোভের সুর অনেকের গলায় । অনেকেই মনে করছেন এই শেষ মুহুর্তে হাইকোর্টের নির্দেশিকা মেনে ব্যবস্থা করা অসম্ভব ব্যাপার। কলকাতার বুকে ৮৫ শতাংশ পুজো হয় অলিগলিতে। সেক্ষেত্রে ৫ মিটার বা ১০ মিটারের দূরত্ব মানা সম্ভব হবেনা কোনও কমিটির পক্ষেই। তাছাড়া দুর্গাপুজোর যাবতীয় রীতিনীতি মানতে ২৫ বা তার বেশি লোকের প্রয়োজন হয়। সেক্ষেত্রে সর্বাধিক সংখ্যাটা যদি ২৫ হয় তাহলে পুজোর ব্যবস্থাপনাতেও ঘাটতি পড়বে'।
তবে সকলেই চান এবছর নির্বিঘ্নেই কাটুক পুজো। তাই সরকার যা সিদ্ধান্ত নেবে, তাই মাথা পেতে নেবে পুজো কমিটির সদস্যরা। দেবী আরাধনা সুসম্পন্ন ভাবে হোক এই প্রচেষ্টায় সমস্ত পুজো কমিটি ।
