একদিকে মাটির উপরে ঐতিহ্যবাহী ট্রাম, অন্যদিকে মাটির নিচে দিয়ে বয়ে চলা মেট্রো। একদিকে অতীতের হাজারো স্মৃতির ছবি অন্যদিকে আধুনিকতার হাতছানি। নিত্য দিনের শহর কলকাতা অনেকটা এইরকমই। কথা হচ্ছিল আধুনিকতার নিদর্শন নিয়ে নিত্য তিব্র বেগে ছুটে চলা মেট্রো নিয়ে। শ্যামবাজার, গিরিশ পার্কের পর এবার একটু টালিগঞ্জে গিয়ে মহানায়কের কথা শুনে আসা যাক। মাটির উপরে অবস্থিত স্টেশন নিয়েও জানা হবে বইকি।
মহানায়ক উত্তম কুমার, অর্থাৎ রবীন্দ্র সরোবর এবং নেতাজি স্টেশনের মধ্যে অবস্থিত স্টেশনটি। বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা মহানায়ক উত্তম কুমারের নামে নামাঙ্কিত টালিগঞ্জ এলাকার এই স্টেশনটি। প্রথম শুরু হয়েছিল ১৯৮৪ সালে। প্রথমে স্টেশনটির নাম টালিগঞ্জ মেট্রো স্টেশন থাকলেও পরে তা পরিবর্তন করে মহানায়কের নামে নামাঙ্কিত করে দেওয়া হয়। পূর্বে এই স্টেশনটি কলকাতা মেট্রোর দক্ষিন টার্মিনাল ছিল। একইভাবে গড়িয়াবাজার মেট্রো স্টেশনের নাম বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামে নামাঙ্কিত। যাদের জন্য আজ বাংলা গর্বিত কলকাতা মেট্রো তাদের প্রাপ্য সম্মান সর্বদা দিয়ে এসেছে।
নোয়াপাড়া বর্তমানে কলকাতা মেট্রোর সর্ববৃহৎ স্টেশন। ২০১৩ সালের ১০ই জুলাই প্রথম এটি চালু হয়। কলকাতা মেট্রোর অন্য সমস্ত স্টেশনে সাধারনত দুটি করে প্ল্যাটফর্ম থাকলেও নোয়াপাড়া মেট্রো এর ব্যাতিক্রম। এই স্টেশনে ১৮২ মিটার দৈর্ঘের চারটি প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। মূলত এই স্টেশনের মাধ্যমেই বরানগর, সিঁথি, টবিন রোড, দমদম ক্যান্টলমেন্ট ও দুর্গানগরের সঙ্গে কলকাতার অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ রক্ষিত হচ্ছে। স্টেশনটি একটি তিনতলা স্টেশনও বটে। এই স্টেশনেই সংযুক্ত ভাবে রয়েছে ডিপো। যে ডিপোটি ভারতের প্রাচীনতম ও বৃহত্তম মেট্রো ডিপো। ডিপোটি একসঙ্গে চল্লিশ টি রেক ধারন করতে সক্ষম।
এর পরেই কলকাতা মেট্রোর এক নতুন রূপের আত্মপ্রকাশ ঘটে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো পরিষেবার। যা নিয়ে পরবর্তী পর্বে বিস্তারিত আলোচনা হবে

