জোট-প্রার্থীদের একুশের বিধানসভা নির্বাচনে প্রাপ্ত আসনের সংখ্যা ১। জয় এসেছে একমাত্র একটি বিধানসভা কেন্দ্র, ভাঙড়ে। জয়ী হয়েছেন আইএসএফ প্রার্থী নৌসাদ সিদ্দিকি। কিন্তু ভাঙড় তো পরিচিত ছিল তৃণমূলের অন্যতম শক্তিশালী গড় হিসেবে, তবে এই পরাজয় কেন? কি বলছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞেরা, দলের অন্দরেই বা কি বিশ্লেষন হয়েছে?
{link}
ভাঙড়ে এবার প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন তৃণমূলের আরাবুল ইসলাম। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ থাকার কারনে আরাবুল নন, তার যায়গায় টিকিট দেওয়া হয় রেজাউল করিমকে। প্রার্থী ঘোষনার পরেই বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন আরাবুল গোষ্ঠীর লোকজন। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান স্বয়ং আরাবুলও। শেষমেশ তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের হস্তক্ষেপে বিক্ষোভ প্রদর্শন বন্ধ করেন তিনি। আন্দোলন বন্ধ করলেও মনঃক্ষুণ্ণ হওয়া আরাবুল দলের অফিসিয়াল প্রার্থীর হয়ে কোমর কষে মাঠে নামতে দেখা যায়নি তাঁকে। ভোটের প্রচারে যে সক্রিয় ও দাপুটে আরাবুল কে কার্যত ভাঙড়ের মানুষ চিনত তাকে আর এবারে দেখেননি তারা। রাজনৈতিক মহলের মতে আরাবুলের এই ‘নিষ্ক্রিয়তা’-র খেসারত ভাঙড়ে দিতে হয়েছে তৃণমূলকে। তৃণমূলের রেজাউল যেখানে ভোট পেয়েছেন ৮২ হাজার ৮৫০টি, সেখানে আইএসএফের নৌসাদ পেয়েছেন ১ লক্ষ ৯ হাজার ৬৩টি। মার্জিনটা বেশ বড়ো।
{link}
ভাঙড়ে মোট জনসংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ। এর ৭০ শতাংশই মুসলিম। বাকিটা হিন্দু। অঙ্ক বলছে, রাজ্যের অন্যান্য অঞ্চলের মতো এখানেও ভোটে মেরুকরণ হয়েছে। হিন্দু ভোটের একটা অংশ পেয়েছেন পদ্ম-প্রার্থী। এই ভোটে ভাগ বসিয়েছেন রেজাউলও। তার জেরেই রেজাউলের প্রাপ্ত ভোট পেরিয়েছে ৮০ হাজারের কোঠা। হিসেব বলছে, আরাবুল সক্রিয় হলে আরও অন্তত ৩০ হাজার ভোট পেতেন দলের অফিসিয়াল প্রার্থী। কিন্তু তিনি হাত গুটিয়ে নেওয়ায় ‘কপাল’ ফিরেছে নৌসাদের। প্রথমবার লড়াইয়ে নেমে হাতে এসেছে একটা সিট। রাজনৈতিক চালেই বাজিমাত করেছে আইএসএফ। মুসলমান ভোটের অঙ্কে ভোট বৈতরণী পার হতে চেয়েছিলেন তিনি। সেই কারণেই ৪০ শতাংশ মুসলিম অধ্যুষিত নন্দীগ্রামে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন তিনি। পরে যখন দেখলেন আরাবুল বসে গিয়েছেন, সম্ভবত তখনই আর এক মুসলিম অধ্যুষিত বিধানসভা কেন্দ্র ভাঙড়ে লড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। আর সেখান থেকেই হাতে উঠেছে জয়ের চাবিকাঠি, বিধানসভার অন্দরে প্রবেশ করেছেন নৌসাদ

