কথায় বলে রথ টানলে দুর্গা আসে! রথ উৎসব ইতিমধ্যেই সানন্দে উদযাপন করেছে বাঙালি। এবার পালা দুর্গাপুজোর। হাতে সময় তিন মাসেরও কম। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের পুজোর তোড়জোড় নিয়ে উঠে পড়ে লেগেছেন ক্লাবকর্তারা। ইতিমধ্যেই কলকাতা শহরে একাধিক পুজোয় খুঁটিপুজো অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে, একই পুজোয় দু’বার খুঁটিপুজো হয়েছে এমন ঘটনা শুনেছেন কখনও? এবার শহর কলকাতার বুকেই ঘটে গেল এই অবাক কাণ্ড! একটি সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, কলকাতার অন্যতম জনপ্রিয় চোরবাগান সার্বজনীনে চলতি বছরে দু’বার খুঁটিপুজো অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগে একবার হয়ে গেলেও বুধবার সন্ধ্যায় চোরবাগান সার্বজনীনে দ্বিতীয়বারের জন্য খুঁটিপুজোর আয়োজন করা হয়েছিল। এমনকি, বদলে গিয়েছে শিল্পীর নামও।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে কেন? প্রথমবারের খুঁটিপুজোয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি মুরাল উন্মোদন করেছিল পুজো কতৃপক্ষ। কিন্তু, পরবর্তীতে সেটি ভেঙে দেওয়া হয়। এই প্রসঙ্গে টেনেই পুজো কমিটির সম্পাদক জানিয়েছেন, প্রথমবারের খুঁটিপুজোয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অপমান করা হয়। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রীকে অপমান করার উদ্দেশ্যেই দেওয়ালে মা দুর্গার ছবি ফুঁটিয়ে তোলা হয়েছিল। নেপথ্যে কয়েকজনের হাত রয়েছে বলেও মনে করেছেন তিনি।
বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবকে রাজনীতি ও দুর্নীতি মুক্ত করতে বদ্ধপরিকর প্রশাসন। রাজ্যে পালাবদলের পর তাই শহরের একাধিক ক্লাবে বদলেছে পুজো কমিটির সদস্য। ব্যতিক্রমী নয় চোরবাগানও। এই প্রসঙ্গে চোরবাগান সর্বজনীন পুজো কমিটির সম্পাদক রাজকুমার সেওদা একটি সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন, “বছর দুয়েক আগে কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রভাব খাটিয়ে পুরসভার জায়গা দখল করে ক্লাব করে। তাতে পাড়ার লোকজনেরও সমস্যা হয়। পুরসভা, পুলিশের তরফে বারবার নোটিস দেওয়া হয়। তবে কার্তিক বন্দ্যোপাধ্য়ায় প্রভাব খাটিয়ে ক্লাব রেখে দেন।” তবে বিজেপি সরকারের জমানায় বদলে গিয়েছে ছবি। রাজকুমারবাবু বলেন, “নতুন সরকার আসার পর ওই বেআইনি ক্লাব ভাঙার নোটিস দেওয়া হয়। গত ২০ জুন ভাঙার নোটিস দেওয়া হয়েছিল। তবে নোটিস হাতে পাওয়ামাত্রই গত ৫ জুন খুঁটিপুজো করা হয়।” কিন্তু সেদিনের খুঁটিপুজোয় নিয়ম মানা হয়নি বলেই দাবি তাঁর। তিনি জানান, সাধারণত ঈশান কোণে খুঁটিপুজো করা হয়। তবে সে রীতি মানা হয়নি। সেই কারণেই শিল্পীর পরামর্শ নিয়ে দ্বিতীবার খুঁটিপুজোর আয়োজন।
দ্বিতীয়বার খুঁটিপুজো হওয়ার পাশাপাশি বদলে গিয়েছে পুজোর শিল্পীও। প্রথমবার চোরবাগান সার্বজনীনের থিমের দায়িত্ব নিয়েছেন বিখ্যাত শিল্পী সুশান্ত শিবানী পাল। তবে কোন থিমে সাজবে মণ্ডপ, তা জানতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

